চিকিত্সার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২১:৩৪

করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে বিশেষায়িত করার কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হাসপাতালে নতুন কোনো রোগীকে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না বা আউটডোরে রোগী দেখাও বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া ভর্তিকৃত রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর দেশের অন্যান্য জেলার মতো বগুড়াতে ১০০ শয্যার একটি আইসোলেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য দপ্তরের ছিল। কিন্তু তা একটি হাসপাতালে করা হবে নাকি একাধিক হাসপাতালের সমন্বয়ে করা হবে তা নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছিলেন না। তবে গত ২২ মার্চ রবিবার জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের উপস্থিতিতে বগুড়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভায় ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকেই আইসোলেটেড হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, গত সোমবার রাতে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটিকে খালি করে সেটি করোনার জন্য আইসোলেশন ইউনিটে পরিণত করার কাজ শুরু হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তিকৃত ১১১ জন রোগীর শুধুমাত্র গাইনি ওয়ার্ডের ৬ জন রোগী ছাড়া অন্যান্য বিভাগের রোগীদের মধ্য যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, আর যাদের চিকিত্সা প্রয়োজন তাদের বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এরপর হাসপাতাল ধোয়া-মোছা করা হয়। গতকাল বুধবার হাসপাতালকে ডিইনফেকশন করা হবে এবং ২ মিটার পর পর শয্যা বসানোর কাজ করা হচ্ছে। ২৬ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাস সন্দেহভাজন ও আক্রান্তদের ভর্তি করানো হবে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, যেহেতু পুরো হাসপাতালই খালি করতে বলা হয়েছে সে কারণে সেখানে বহির্বিভাগের কার্যক্রমও পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে সর্দি-কাশি নিয়ে যারা আসবেন তাদের সীমিত আকারে চিকিত্সা দেওয়া হবে। মূল ভবনের পাশে বেওয়ারিশ মৃতদেহ সত্কার সমিতির কার্যালয়ে তাদের চিকিত্সা দেওয়া হবে।