করোনা মোকাবিলায় মতৈক্য মার্কিন সিনেটে

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২১:৪৪

প্রাণঘাতী করোনাজনিত অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ গৃহীত হইয়াছে আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে। গত বুধবার দীর্ঘ সময় ধরিয়া তর্কবিতর্কের পরে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা সর্বসম্মত হইয়া ৯৬-০ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাশ করিয়া দেন। বিশ্লে­ষকেরা মনে করিতেছেন যে মহাদুর্যোগের দিনে রাজনীতিকদের দলীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠিতে পারিবার সক্ষমতা ভালো একটি নজির হইয়া থাকিবে সিনেটের এই সিদ্ধান্ত। প্যাকেজ মোতাবেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকেরা প্রত্যেকে ১ হাজার ২০০ ডলার করিয়া সরাসরি সাহায্য পাইবেন। ইহা ব্যতীত ব্যবসায়-বাণিজ্য, শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলির জন্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়গুলির জন্য ৩৬৭ বিলিয়ন ডলার এবং হাসপাতাল ও কর্মহীনদের ইনসিওরেন্স বাবদ ১৩০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হইয়াছে।

অনেকেই, বিশেষ করিয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেক সমর্থক মনে করিতেছেন যে সিনেটে গৃহীত প্যাকেজটি সমুদ্রের মধ্যে এক ফোঁটা শিশিরবিন্দুর মতোই ক্ষুদ্র। বস্তুত, রিপাবলিকানদের সহিত ডেমোক্র্যাটদের দরকষাকষির বিপত্তিতেই গত রবিবার ও সোমবার সিনেটের দুটি ভোটাভুটি ব্যর্থ হইয়া যায়। ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন ছিল অর্থের বিভাজন লইয়া। উল্লেখ্য, নিয়ম মোতাবেক প্রস্তাবিত প্যাকেজটি গ্রহণ করিবার জন্য মোট ১০০ জন সিনেট সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে ৬০ জনের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। দেখা যাইতেছে, প্যাকেজের বরাদ্দ অপ্রতুল মনে করিলেও দরকষাকষির একটি পর্যায়ে আসিয়া দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়া ডেমোক্রেটিক পার্টি নমনীয় অবস্থান গ্রহণে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে, রিপাবলিকান পার্টিও তাহাদের প্রাথমিক অবস্থান হইতে কিছুটা সরিয়া আসিয়াই ডেমোক্র্যাটদের সহিত মতৈক্যে পৌঁছাইতে সক্ষম হয়। ইদানীং কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দলীয় লাইনেই ভোটদান দস্তুর হইয়া উঠিয়াছে। স্মর্তব্য, কিছুদিন পূর্বে ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রস্তাব পাশ হইলেও রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটে তাহা প্রত্যাখ্যাত হয়। অর্থাত্, ট্রাম্প অভিশংসিত হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনাই মূলত কাজ করিয়াছে। ইহার ফলে দুই দলের মধ্যে দূরত্বও বাড়িয়াছিল নিঃসন্দেহে। এইবার ঘটিয়াছে উলটো ঘটনা। দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সিনেট সদস্যরা ভোট প্রদান করিলেও তাহা জাতীয় স্বার্থে ইতিবাচক হইয়াছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে শিক্ষণীয়।

দুই দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রটিতে মতৈক্য দেখা গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প কেমন করিয়া সমগ্র বিষয়টিকে সামাল দেন তাহা এখন দেখিবার বিষয় হইয়া উঠিতেছে। উল্লে­খ্য, ট্রাম্প মধ্য এপ্রিল নাগাদ আমেরিকাকে করোনা-অবরোধমুক্ত দেখিতে চাহিতেছেন। তাহার মতে, এই সময়সীমার মধ্যেই সমগ্র দেশ ‘রকেটের গতিতে’ পুনরায় মুক্ত হইয়া সবকিছু স্বাভাবিক হইয়া যাইবে। ট্রাম্পের এহেন বক্তব্যে প্রমাদ গুনিতেছেন বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী করোনা কেমন করিয়া নিশ্চিহ্ন হইয়া যাইবে তাহা ভাবিয়া কূল পাইতেছেন না এই বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা।