চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণে ১০০ কিটের প্রথম চালানটি বুধবার এসে পৌঁছেছে। সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, প্রাথমিকভাবে ১০০টি কিট ঢাকা থেকে আনা হয়েছে। এগুলো রাখা হয়েছে ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিস (বিআইটিআইডি) কেন্দ্রে। এখন থেকে চট্টগ্রামেই করোনা পরীক্ষা করা যাবে। প্রয়োজন হলে আরো কিট আনা হবে।
চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস সতর্কতায় দুটি ভবন ও একটি রেস্টুরেন্ট লকডাউন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার নগরীর খুলশী ২ নম্বর সড়কে একটি কোরিয়ান রেস্টুরেন্ট সিলগালা করে দেয় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে রেস্টুরেন্টের জাপানি দুই মালিক এবং তিন বাংলাদেশি কর্মচারীসহ পাঁচ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার ঐ রেস্টুরেন্টে কমপক্ষে ২০ জনের যাওয়ার প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন ঐ রেস্টুরেন্ট মালিককে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে লাল পতাকা টাঙিয়ে রেড স্টিকার লাগানো হয়। তবে গতকাল পুনরায় গিয়ে রেস্টুরেন্টটি খোলা দেখতে পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ কারণে রেস্টুরেন্টটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর চান্দগাঁও ও বাকলিয়া এলাকার দুটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাড়ি দুটিতে করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা কয়েকজন রয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশাসনের নির্দেশে ভবন দুটি লকডাউন করা হয়। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী জানান, সম্প্রতি ওমরা থেকে ফিরে আসা কক্সবাজারের এক নারীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ঐ নারী গত ১৩ মার্চ দেশে ফিরে চান্দগাঁও এলাকায় ছেলের বাসায় ওঠেন। করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসায় বাড়িটি লকডাউন করতে বলা হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রোধে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে জীবাণুনাশক ওষুধ মিশ্রিত পানি ছিটানো কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। গতকাল বুধবার নগরীর ওয়াসা মোড় থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন। প্রথমদিনে ওয়াসা থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত পানি ছিটানো হয়। প্রতিদিন নগরীতে ৪২ হাজার লিটার পানি ছিটানো হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় করোনা সচেতনতায় মাইকিং করেছে সেনাসদস্যরা। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর মেজর মেজবাহর অধীনে এক প্লাটুন সেনাসদস্য নগরীর আকবরশাহ, পাহাড়তলী, খুলশী, জিইসি, ওয়াসা, নাসিরাবাদ এলাকাসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দেয়। এ সময় তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাসায় লাল পতাকা ও স্টিকার লাগিয়ে দেন। প্রবাসীরা যথাযথভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কিনা তা তদারকি করেন। লোকজনকে অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় থাকার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করেন।
