ওসির কক্ষে আসামির ঝুলন্ত লাশ

আমতলী থানার ওসি প্রত্যাহার

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২২:৩১

আমতলী থানা হেফাজতে শানু হাওলাদারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার বিকালে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল বাশারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের এক আদেশে বরিশাল ডিআইজির নির্দেশে বরগুনা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন পিপিএম স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে প্রত্যাহার করে বরগুনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ, এসপি পদায়ন) তোফায়েল আহম্মেদ। ঘটনার দিন সকালেই বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন দায়িত্ব অবহেলায় ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রী ও ডিউটি অফিসার এ এস আই আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ, এসপি পদায়ন) তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে এ ঘটনার তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর) মো. মহব্বত আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলাম। তদন্ত কমিটি সিসি             ক্যামেরার ফুটেজ চেক, ভিসেরা রিপোর্টসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান বরগুনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ, এসপি পদায়ন) তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, থানায় আসামির মৃত্যুর মূল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত কাজ শেষ হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক ফোরাম ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়ার গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শানু হাওলাদারের দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মামলা হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রীর অফিস কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় শানু হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ মার্চ রাতে পুলিশ শানু হাওলাদারকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। তবে পুলিশের দাবি শানু আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।