নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রূপগঞ্জের ছয় শতাধিক প্রবাসী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২২:৩৮

রাজধানীর সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। উপজেলার হাটবাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। নেই ক্রেতা সমাগম। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন তত্পর রয়েছে। তবে বাজারের দোকানগুলোতে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড রাবের সংকট রয়েছে। দামও বেশি।

ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ৭ শতাধিক প্রবাসী রূপগঞ্জে এসেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৩৪ জন প্রবাসী কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছেন। এরই মধ্যে চার জন প্রবাসীকে জরিমানা করেছেন প্রশাসন। বাকিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। ঘরে বসে সাধারণ মানুষ অলস সময় পার করছেন। কেউ টেলিভিশন দেখে আর কেউ বা ঘুমিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন। তবে ভয়, শঙ্কা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

রূপগঞ্জের রাস্তাঘাট ফাঁকা। লোকজনের চলাচল নেই। রিকশা-অটোরিকশা ছাড়া কোনো পরিবহনের চলাচল নেই। দোকানপাট ও চায়ের দোকানে আড্ডা নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন মুনাফা লোভী কিছু ব্যবসায়ী। হাটবাজারে আগতদের হাত, মুখ ধোয়ার জন্য স্থানে স্থানে সাবান ও পানি রাখা হয়েছে।

কাঞ্চন, তারাবো, ভুলতা, গাউছিয়া, ইউসুফগঞ্জ, বাঘবের ও মুড়াপাড়াসহ আশপাশের সব হাটবাজারে আগের মতো ক্রেতা-বিক্রেতা নেই। মুড়াপাড়া বাজারের জনকল্যাণ ফার্মেসির মালিক ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মশিউর রহমান তারেক বলেন, সাধারণ মানুষ এখন খুব সতর্ক। আইনের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ভয়ে চিকিত্সকদের পরামর্শ তারা মেনে চলছেন। বাজারে লোক সমাগম কম। বিক্রিও কম।

রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, রূপগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন পরিচালক ও শিক্ষক কল্যাণ সমিতি, মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সামাজিক সংগঠনগুলো করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছেন।

কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র আলহাজ রফিকুল ইসলাম ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া এলাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করেন এবং হ্যান্ড ওয়াশ ও মাস্ক বিনা মূল্যে বিতরণ করেছেন।

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের উদ্যোগে রূপগঞ্জের ৫ শতাধিক মসজিদে একযোগে করোনা ভাইরাস থেকে দেশবাসীর মুক্তির কামনায় মোনাজাত করা হয়। জুমার নামাজের সময় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। মুসল্লিরা মাস্ক ও গ্লাভস পরে মসজিদে আসেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার মাধ্যমে এই ভাইরাসের মোকাবিলা করতে হবে। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখতে হাটবাজারে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।