তবে বাংলাতেই চলুক

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৯

বিশ্বে ত্রিশ কোটি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। আর এ ভাষার কারণেই পৃথিবীতে বাংলাদেশের একটি আলাদা মর্যাদা আছে। তা হলো এদেশের আছে রক্ত দিয়ে এ ভাষার মর্যাদা রক্ষা করার গৌরব। অথচ এই ভাষায় লিখতে বা বলতে গিয়েই নাকি আজকাল বেঁধে যাচ্ছে নানা গণ্ডগোল। বিষয়টিকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আগের সময়ের চেয়ে লেখাপড়ার হার বেড়েছে, কিন্তু মান সে হারে বাড়েনি। অনেক স্কুুল-কলেজই আছে, যেখানে বাংলা ভাষার ব্যবহার ঠিকমতো হয় না। অনেক ছেলেমেয়েরা আছে, বাংলা বলতে না-পারার বিষয়টি নিয়ে খুব গর্ববোধ করে। তারা বাংলা ও ইংরেজি শব্দের মিশ্রণে এক ধরনের আজব ভাষায় কথা বলে। যা মোটেও ঠিক নয়। নিজের ভাষার প্রতি যদি শ্রদ্ধাবোধ থাকে তাহলে কখনোই বাংলা ভাষায় বলতে ও লিখতে ভুল হওয়ার কথা নয়।

বাংলায় দুর্বলতার কারণ

বাংলা ভাষার প্রতি আন্তরিকতার অভাব থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। অবশ্য ভুল শেখার হাতেখড়িটা প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শুরু হয়। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাটা খুব জরুরি। এ পর্যায়ে শিক্ষকদের খুব যত্নবান হতে হয়। ভাষার প্রতি শিক্ষার্থীদের কৌতূহল থাকলেও তা পূরণ হয় না। কারণ অধিকাংশ শিক্ষকেরা জানেন না সঠিক বিষয়টি। এ দুর্দশার আরও একটি কারণ হলো বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া। অবসরে আজকাল আর সঙ্গী হয় না বই। সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে কোনো বিদেশি প্রযুক্তি। সেখানে বাংলার কোনো নাম-গন্ধ নেই। অথচ চর্চার মধ্য দিয়েই ভাষার শুদ্ধতা ও সঠিকতার জ্ঞান অর্জিত হয়। অথচ আজ এই চর্চারই অভাব দেখা যায়।

বাংলাতেই চলুক...

শুধু গল্প নয়, কবিতা নয়, প্রবন্ধ নয়; নিজেকে প্রকাশ করতে বাংলা বলা ও লেখাটা হওয়া চাই ঝরঝরে। স্মৃতি ধরে রাখা, প্রিয়জনকে চিঠি লেখা—সব যেন সঠিক বাংলায় লেখা হয়, কারণ আপনার জ্ঞান, আত্মসম্মানবোধ প্রকাশিত হয় আপনার লেখার মধ্যদিয়ে। ভাব সঠিকভাবে প্রকাশের জন্য প্রয়োজন হয় সঠিক শব্দ নির্বাচন। এজন্য সঠিক শব্দটি বাছাই করতে হবে। কোন শব্দের পর কোন শব্দ হবে তা নির্ধারণ করুন। যদি ক্রিয়াপদ বেশি চলে আসে তাহলে তা কমিয়ে বা ঘুরিয়ে ফেলতে পারেন। ভুল বানান আপনার ব্যক্তিত্বকে খর্ব করে। ফুরফুরে বাংলা সঠিকভাবে যদি মাথায় নিতে পারেন, তাহলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। হতে পারে কোনো শব্দ কর্কশ বা সুরেলা। সমার্থক শব্দ থেকে আপনি সুবিধামতো সঠিক শব্দটি বেছে নিতে পারেন। শব্দের জন্ম-মৃত্যু আছে। ধারণা করা হয় ২০-২৫ বছর অন্তর ভাষার ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্যে কিছুটা পরিবর্তন আসে। তবে তা লেখার ক্ষেত্রে ভুল আনে না। একটু সচেতন হলে বা বাক্য গঠন ঠিক থাকলে ভুল হয় না।

ছোটখাটো পদ্ধতি

g ভাষাকে জানতে হবে। বুঝতে হবে। অর্থাত্ বাক্য গঠনের নিয়মটা জানতে হবে।

g দরকার চর্চা, বেশি বেশি করে লেখা। বারবার লিখলেই বুঝতে পারবেন কোথায় আপনার দুর্বলতা।

g অভিধান কিনুন। হাতের কাছে রাখুন। প্রয়োজন হলে দেখে নিন। সঠিক বাংলা জানতে ছোটবেলা থেকেই অভিধান পড়ার অভ্যাস করুন।

g স্কুুলে বাচ্চাদেরকে ব্যাকরণ নিয়ে কঠিনভাবে ধারণা দেওয়া হয়। ফলে বাংলা ব্যাকরণ নিয়ে তৈরি হয় ভীতি। বাংলা ব্যাকরণ এমন কঠিন কিছু নয়। অল্প কিছু পদ্ধতি জানা থাকলে ব্যাকরণ পুরোপুরি রপ্ত করা যাবে। তাই সহজ ভাষায় ব্যাকরণ শিখুন।

g অনুবাদেরও দরকার হয় মাঝে মাঝে। সঠিক শব্দ জানুন এবং নিজের ভাষায় অনুবাদ করুন। যাতে অর্থ সঠিক ও সাবলীল হয়।

g বেশি বেশি বই পড়ুন। ঝরঝরে বাংলা লেখায় কাজে দেবে। আমাদের দেশে অনেক গুণী কবি আছেন, তাদের লেখা বইয়ের ভাষা ও শব্দগুলো আপনাকে সঠিক বাংলা শিখতে সাহায্য করবে।