শেষ কর্মদিবসে টাকা তুলতে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন :কলমানি বেড়েছে

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৮

সাপ্তাহিক ছুটি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বছরের শেষ চারদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এজন্য গতকাল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। টাকা তোলা ও জমা দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। একইসঙ্গে গতকাল ব্যাংক ক্লোজিংও ছিল। ফলে ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে।

গ্রাহকদের নগদ টাকার প্রয়োজনের পাশাপাশি সরকারেরও নগদ অর্থের প্রয়োজন বেড়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রয়োজন মেটাচ্ছে সরকার। ফলে নগদ টাকার চাহিদার জোগান দিতে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে ধার নেওয়ার (কলমানি) প্রবণতাও বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কোনো ব্যাংকের সংকট এত বেশি যে, তারা রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে অর্থ নিচ্ছে। কলমানিতে ধারের পরিমাণ বাড়ায় কলমানি মার্কেটে সুদহার দেড় শতাংশ থেকে মাত্র ১০ দিনে বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। গত ১১ ডিসেম্বর কলমানিতে সর্বনিম্ন সুদহার ছিল দেড় শতাংশ, গতকাল তা হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ।

এদিকে নির্বাচনের আগে সরকারও প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিচ্ছে। সামপ্রতিক সময়ে ঋণ নেওয়ার এ প্রবণতা বাড়ায় গত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ২৫ কোটি টাকা। ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে সরকারের ঋণস্থিতি ৬৯ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়। রাজধানীর ব্যাংকপাড়া হিসেবে পরিচিত মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে টাকা তুলতে ব্যাংকের কাউন্টারের সামনে গ্রাহকদের লম্বা লাইন। শুধু ব্যাংকের শাখাই নয়, এটিএম বুথগুলোতেও গ্রাহকদের বেশি ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ শাখা থেকেও গ্রাহকরা প্রচুর টাকা তুলছেন বলে জানা গেছে। সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহক প্রতিনিয়ত শাখা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করছে। বিশেষ করে গ্রাম ও ছোট শাখাগুলোয় জমার তুলনায় উত্তোলন বেড়েছে। এ জন্য শাখা পর্যায়ে টাকা পাঠাতে হচ্ছে। শাখাগুলোয় নগদ অর্থের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৫০ ভাগ বেড়েছে বলেও জানান তারা। নির্বাচনের আগে প্রার্থী, দলীয় নেতা-কর্মীদের টাকা খরচের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। তাই এসময় নগদ টাকার চাহিদা বাড়ার কারণেই আগে থেকে টাকা তুলতে শুরু করেছেন তারা। গতকাল শেষ কর্মদিবসে বেশি করে টাকা তুলে রেখেছেন পরবর্তীতে খরচের জন্য।

জানা গেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট গ্রহণের দিন দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর আগে ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। ওই দুইদিন সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ভোটের পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দেশের ব্যাংকগুলো ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করবে। ওইদিন সব ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ থাকবে। এ হিসেবে ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা চারদিন দেশের কোনো ব্যাংকেই লেনদেন হবে না।