সুপ্রিয় বন্ধুরা,বিশ্ব এক দুর্যোগ মুহূর্ত পার করছে। তোমাদের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। আবার নতুন করে রুটিন দেওয়া হবে। এ সময়টায় ঘরে বসে চর্চা করো তোমার পড়া বিষয়গুলো। সময়ের অপচয় করবে না, বেশি রাত জেগে পড়বে না। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। অনুশীলন পাতায় চোখ রাখো,আমরা আছি তোমাদের সাথে।
সৃজনশীল প্রশ্ন :
(ক) মেসোগ্লিয়া কী ? ১
(খ) সিলেন্টেরনকে পরিপাক সংবহন গহ্বর বলা হয় কেন ? ২ (গ) চিত্র-A দ্বারা কী নির্দেশ করা হয়েছে ? বর্ণনা করো। ৩
(ঘ) লম্বা দূরত্ব অতিক্রমের জন্য চিত্র-B, চিত্র-A এর তুলনায় বেশি যথাযথ ? ব্যাখ্যা করো। ৪
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর :
(ক) মেসোগ্লিয়া : নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের এক্টোডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝে অবস্থিত জেলির মতো স্বচ্ছ,স্থিতিস্থাপক ও অকোষীয় স্তরটি হলো মেসোগ্লিয়া।
(খ) উত্তর : হাইড্রার দেহের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত ফাঁকা গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে। এতে খাদ্যের বহি:কোষীয় পরিপাক এবং খাদ্যসার, শ্বসন ও রেচন পদার্থ পরিবাহিত হয় বলে একে পরিপাক সংবহন গহ্বর বলা হয়।
(গ) উত্তর : চিত্র-A দ্বারা Hydra-র লুপিং চলন নির্দেশ করে। লম্বা দূরত্ব অতিক্রমণের জন্য Hydra সাধারণত: হামাগুড়ির সাহায্যেই চলে। এ প্রক্রিয়ার শুরুতেই এক পাশের পেশী আবরণী কোষগুলো সংকোচিত হয় এবং অপর পাশের অনুরূপ কোষগুলো প্রসারিত করে। ফলে Hydra গতিপথের দিকে দেহকে প্রসারিত করে ও বাঁকিয়ে মৌখিক তলকে ভিত্তির কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং কর্ষিকার গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্টের সাহায্যে ভিত্তিকে আটকে ধরে। এরপর পদতলকে মুক্ত করে মুখের কাছাকাছি নিয়ে এসে স্থাপন করে এবং কর্ষিকা বিমুক্ত করে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ায়। এ পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে Hydra স্থান ত্যাগ করে। এ চলন কিছুটা শুঁয়ো পোকার গমন পদ্ধতির মতো দেখায়।
(ঘ) উত্তর : চিত্র-A চলন প্রক্রিয়াটি হচ্ছে Hydra-র লুপিং বা হামাগুড়ি প্রক্রিয়া। অন্যদিকে চিত্র-B চলন প্রক্রিয়াটি হচ্ছে Hydra-র সমারসল্টিং প্রক্রিয়া। লম্বা দূরত্ব অতিক্রমের ক্ষেত্রে লুপিং এর তুলনায় সমারসল্টিং প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট কার্যকরি। কারণ, Hydra সমারসল্টিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত: অতি দ্রুত চলাফেরা করে।
সমারসল্টিং প্রক্রিয়ায় Hydra-র দেহের একদিক সংকোচিত ও অন্যদিক প্রসারিত করে দেহকে বাঁকিয়ে চলন তলের উপর কর্ষিকাগুলো স্থাপন করে। তারপর পাদচাকতিকে মুক্ত করে প্রায় বাঁকিয়ে গমন পথের ওপরে চলনের দিকে নতুন অবস্থানে স্থাপন করে। এরপর হাইড্রা কর্ষিকাগুলোকে বিমুক্ত করে পাদচাকতির ওপর ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এ পদ্ধতিতে হাইড্রা একবার কর্ষিকার উপর এবং তার পরের বার পাদচাকতির উপর ভর করে দাঁড়ায়। এই পদ্ধতিতে একবার পাদচাকতি সামনে ও কর্ষিকার পিছনে চলনতলের উপর সংলগ্ন হয়। এর ফলে লম্বা দূরত্ব অতি অল্প সময়ে অতিক্রম করা যায়। অপরদিকে লুপিং চলন পদ্ধতিতে Hydra লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করে। এটি অপেক্ষাকৃত ধীরগতির পদ্ধতি। তাই বলা যায়,লম্বা দূরত্ব অতিক্রমের জন্য সমারসল্টিং প্রক্রিয়া তথা চিত্র-B লুপিং প্রক্রিয়া বা চিত্র-A এর তুলনায় বেশি যথাযথ।
