করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে আছে গোটা বিশ্ব। ক্রিকেটের সব কার্যক্রম বন্ধ। গত ১৫ মার্চ শুরু হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হয়ে গেছে। অথচ এই সময়টাতে ২২ গজে ব্যাটে-বলের লড়াইয়ে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। করোনার কারণে এখন দেশবাসীর মতো ক্রিকেটাররাও গৃহবন্দি। ব্যস্ত জীবন থেকে অলস সময়, ঘরবন্দি হয়ে থাকার সময়টাতে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ধরে রাখা ও মানসিকভাবে শক্ত থাকার গুরুত্ব অনেক।
অনেকে ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন। ফিটনেস হারিয়ে বসতে পারেন। সামগ্রিক মানসিক চাপ সামলে স্বাভাবিক থাকতে, ফিটনেস ধরে দেশের ক্রিকেটারদের জন্য ৯টি নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। যেটা অনুসরণ করলে ক্রিকেটাররা উপকৃত হবেন। বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘এই রুটিনে আমরা সব খেলোয়াড়কে পরামর্শ দিয়েছি যাতে তারা ঘরেই থাকে কারণ এই মুহূর্তে যে অবস্থা চলছে। আমাদের প্রথম পরামর্শ হচ্ছে, তাদের নতুন রুটিন করতে হবে যেখানে ব্যয়াম, ইমমিউনিটি বাড়ানোর ডায়েট, মানসিক শক্তি বাড়াতে মেডিটেশন থাকে।’
বিসিবির এই প্রধান চিকিত্সক জানান, ৯টি পয়েন্ট রয়েছে ক্রিকেটারদের প্রতি তাদের নির্দেশনায়। তিনি বলেন, ‘এই গাইডলাইনে সর্বমোট ৯টি পয়েন্ট রয়েছে। যদি ক্রিকেটাররা এটা অনুসরণ করে তাহলে তারা এটা থেকে উপকৃত হবে।’
টিভি, অনলাইন, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর দেখে ক্রিকেটাররা যেন আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে পড়ে তার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন দেবাশীষ চৌধুরী। নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছাড়া সংবাদ না পড়াই ভালো মনে করেন তিনি। দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনার স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। আমরা খেয়াল করেছি, যদি তারা টিভি, অন্য মিডিয়া, সোশ্যাল প্লাটফরম থেকে আসা সব খবর বিশ্বাস করে বসে তাহলে তারা চিন্তায় পড়ে যাবে। আমরা বলব নির্ভরযোগ্য মাধ্যম যেমন ডব্লিউএইচও (হু), সরকারি মাধ্যমগুলো অনুসরণ করা উচিত, তাতে তারা আতঙ্কিত হবে না। নির্ভরযোগ্য মাধ্যমগুলো অনুসরণ করাই সবার জন্য ভালো।’
ক্রিকেট মাঠে নেই। করোনার কারণে ক্রিকেটাররা ঘরে। যেখানে তাদের কার্যক্রম মনিটরিং করার উপায় নেই বিসিবির। ক্রিকেটারদের নিজ দায়িত্বে, নিজের ভালোর জন্যই এসব গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘ওদেরকে মনিটরিং করার কোনো কৌশল আমাদের কাছে নেই যে, তারা এসব পরামর্শ মানছে কি, মানছে না। তারা সবাই ঘরে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, সবার পক্ষে এটা মানা সম্ভব। যত বেশি এটা মেনে চলবে, ততই তাদের জন্য ভালো।’
