অনেক আশা জাগিয়ে চেলসি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি দিলেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিজের প্রথম মৌসুমটা ভালো কাটেনি এডেন হ্যাজার্ডের। তার পরও বেলজিয়ান এই ফরোয়ার্ড মাদ্রিদ ভক্ত-সমর্থকদের কাছে দুঃসময় কাটিয়ে শিগিগরই ফর্মে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দল ছাড়ার পর থেকেই একজন তারকা ফরোয়ার্ডের সন্ধানে ছিল রিয়াল। শেষমেশ সেই অভাবটা তারা মেটায় হ্যাজার্ডকে এনে। চেলসিকে সাত মৌসুমে দুটি প্রিমিয়ার লিগ আর একটি ইউরোপা লিগ জেতান হ্যাজার্ড, একবার হয়েছেন প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা ফুটবলারও। রিয়ালে আরো জ্বলে ওঠার সব রকম রসদই তো ছিল তার!
এর মধ্যে সাবেক চেলসি ফরোয়ার্ডের পথ আগলে দাঁড়ায় চোট। দলে থিতু হতে কিছুটা সময় নিয়ে গত নভেম্বরে যখন ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, গোড়ালির চোট দুই মাসের জন্য ছিটকে দেয় তাকে। ফেরেন জানুয়ারির শেষে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে আবারও একই চোট মৌসুমটাই শেষ করে দেয় তার।
সম্প্রতি বেলজিয়ামের আরটিবিএফকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে হ্যাজার্ড বাজে শুরুর ব্যাপারটা মেনে নেন। বলেন, ‘এখানে আমার শুরুটা বেশ বাজে হয়েছে। তবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ব্যাপারটা মাথায় রাখলে একে পুরোপুরি বাজেও বলা যাবে না।’
হ্যাজার্ড মনে করেন, পরবর্তী মৌসুমের পারফরম্যান্স দিয়েই মাপা হবে তাকে। রিয়াল ফরোয়ার্ডের ভাষ্য, ‘আমার দ্বিতীয় মৌসুমটা কেমন যাবে তা দিয়েই মূল্যায়ন করা হবে আমাকে। এখানে অনেক নতুন মানুষের সঙ্গে মিশেছি। দারুণ সব খেলোয়াড়। আমার জন্য এটা অনেক বড়ো অভিজ্ঞতা। আমার চুক্তিতে আরো চার বছর বাকি আছে। আশা করি এ সময়টায় ফর্মে থাকতে পারব।’
চোট কাটিয়ে ইউরো ২০২০-এ ফেরার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন হ্যাজার্ড। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে টুর্নামেন্টটা পিছিয়ে গেছে আরো এক বছর। এতে কিছুটা হলেও হতাশ বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড, ‘আশা করেছিলাম ওখানেই ফিরব। আর তাই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে যাওয়াটা একটু হতাশার।’
তবে সার্বিক দিক ভেবে টুর্নামেন্ট পিছিয়ে যাওয়াটাকে সমর্থনও করলেন হ্যাজার্ড। বললেন, ‘কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে জীবনে অনেক কিছুর প্রাধান্য আছে। এর মানে হচ্ছে, টুর্নামেন্টটাকে পিছিয়ে দিতেই হতো। ফুটবলাররা তো দিন শেষে আর দশজনের মতোই। এটা (ইউরো) সামনের বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবে।’
