১৩ বছরেও চালু হয়নি সারিয়াকান্দি মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ২১:৩৮

বিভিন্ন সরকারের আমলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যমুনা নদীতে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস  দীর্ঘ ১৩ বছরেও চালু হয়নি। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও বগুড়া জেলার মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটটি চালুর জন্য বিভিন্ন সময়ে সম্ভাব্যতা  যাচাই ও দফায় দফায় সার্ভে করা হলেও আজও ফেরি সার্ভিস চালু হয়নি। সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালু ও নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা দুটি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।

সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য ইতিপূর্বে সারিয়াকান্দি-গাবতলী বগুড়া ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়। জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে মাদারগঞ্জ (জামথল) ঘাট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। উল্লেখ্য, বহু বছর ধরে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর, শেরপুর জেলার মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও আত্মীয়তা উপলক্ষ্যে এই নৌরুটে ৮/১০ কিলোমিটার উত্তাল যমুনা নৌকায় পাড়ি দিয়ে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু ফেরি সার্ভিস না থাকায় যানবাহন পারাপার হয় না। সে কারণে ব্যাবসায়িক  উদ্দেশ্যে উভয় পাড়ে মালামালও পরিবহন হয় না। সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালু হলে সহজে এবং স্বল্পসময়ে নদী পারাপার সম্ভব হবে। বর্তমানে বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে জামালপুর, শেরপুর যেতে সময় লাগে তিন/চার ঘণ্টা। কিন্তু ফেরি সার্ভিস চালু হলে সরাসরি ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে এবং সময় সাশ্রয় হবে। এদিকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের যানবাহন বিকল্প হিসেবে এই রুট ব্যবহার করতে পারবে।

উল্লেখ্য, ফেরি সার্ভিস চালুর দাবিতে ২০০৬ সালে সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জবাসী একযোগে  মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। এ সময় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)  মাদারগঞ্জ ও কালিতলা ঘাটে পন্টুন স্থাপন করে এবং  বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক এসটি খিজির কালিতলা ঘাটে এসে নোঙ্গর করে। ফেরি সার্ভিস চালুর দাবিতে গত বছর সারিয়াকান্দি-সোনাতলা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ও মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আযম নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে যৌথ ডিও লেটার পাঠান।  এর পর গত বছর ৫ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুস সাত্তার শেখ ও বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী মফিদুল ইসলাম সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে যুগ্মসচিব আব্দুস সাত্তার শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস চালুর ব্যাপারে এরই মধ্যে একটি প্রতিবেদন বিআইডব্লিউটিএর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী  মফিদুল ইসলাম বলেন, অচিরেই নৌপরিবহন  মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ঐ বৈঠকে  সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ ফেরি সার্ভিস ছাড়াও বালাসী ঘাট, পাটুরিয়া ও দোহার ঘাট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।