নড়াইলের বিলগুলোতে গড়ে উঠেছে শুঁটকির খোলা

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ২১:৪০

নড়াইলের বেশ কয়েকটি বিল এলাকায় চলছে দেশি পুঁটি সংগ্রহ করে শুঁটকি তৈরির কাজ। গত কয়েক বছর বিলের অতিরিক্ত পুঁটি মাছ শুকিয়ে চ্যাপা শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এখানে। স্থানীয় ব্যবসায় ও মত্স্যজীবীরা লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরির খোলা। গত ৮ বছর ধরে কয়েকটি বিল এলাকায় চলছে দেশি মাছের শুঁটকি তৈরির কাজ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার মত্স্যজীবী এই কারবারে জড়িত থেকে লাভবান হচ্ছেন। শলুয়ার বিল, নলামারা বিল, টাকিমারা বিল, চাচুড়ী বিল, পাটেশ্বরী বিল এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ২৫টি শুঁটকির খোলা। বর্তমানে প্রতিমণ শুঁটকি ৮-১২ হাজার টাকায় করে বিক্রি হচ্ছে। বছরে প্রায় ৪ হাজার মণ শুঁটকি মাছ তৈরি হয় এখানে যার বাজার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। স্থানীয়রা ছাড়াও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বা?হ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ভারতের পাইকারদের কাছে এসব মাছ বিক্রি করেন। পাটেশ্বরী বিলের শুঁটকির খোলা মালিক গোপালগঞ্জের মোসসেদপুরের হাজী চান মিয়া জানান, আশেপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা শুঁটকি মাছ বস্তায় ভরে আমাদের এলাকায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার মোকামে বিক্রি করি। আমাদের ভালোই ব্যবসা হয়। বাহ্মণবাড়িয়া আনন্দবাজারের মাছ আড়তদার নারায়ণ সাহা জানান, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই ধরনের পুঁটি মাছের শুঁটকি আমাদের আড়তগুলোতে আসে, যা আট থেকে ১২ হাজার টাকা মণ কেনা পড়ে। এখান থেকে ছোটো-বড়ো মাছের গ্রেডিং করে আখাউড়া বন্দর দিয়ে ভারতে চলে যায়। চাচুড়ী গ্রামের মত্স্যজীবী নারায়ণ বিশ্বাস জানান, আগে বিলের থেকে সংগ্রহ করা ছোটো পুঁটি মাছ বাড়িতে হাস-মুরগিতে খেত আর বড়োগুলো আমরা খেতাম। এখন এগুলো বিক্রি করে ভালো টাকা পাচ্ছি। জেলা মত্স্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলার একটি অংশে ১১৬ মেট্রিক টন শুঁটকি উত্পাদান হয়েছে। নড়াইল জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মাহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম বলেন, নড়াইলে দেশি শুঁটকির প্রক্রিয়া ব্যাপক হারে বাড়ছে। শুঁটকি কারবারীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারিনি। এই কাজে নিয়োজিতদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত দেশি শুঁটকি উত্পাদন করে নড়াইলের শুঁটকি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।