করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যশোরে স্থানীয়ভাবে তৈরি রেইনকোটের আবরণ দিয়ে শরীর ঢেকে চিকিত্সাসেবা দিচ্ছেন ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিকিত্সকরা একে বলছেন ‘লাগসই প্রযুক্তি’। আর জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীর ভিড় একেবারেই নেই। এই সুযোগে স্থানীয়ভাবে কর্তৃপক্ষ চিকিত্সকদের সবার ডিউটি কমিয়ে ‘রিজার্ভ ফোর্স’ তৈরির কৌশল গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে শনিবার হাসপাতালের সভাকক্ষে যশোর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক এবং সব বিভাগীয় প্রধানের উপস্থিতিতে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন চিকিত্সক ইত্তেফাককে বলেন, করোনা পরিস্থিতি যদি জটিল আকার ধারণ করে, আর চিকিত্সা সংশ্লিষ্টদের অনেকেই একসঙ্গে আক্রান্ত হন, তখন সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়বে। এজন্য হাসপাতালের সবাইকে যাতে একযোগে ডিউটি পালন করতে না হয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে ডিউটি চার্ট করা হচ্ছে। যেন যে কোনো পরিস্থিতিতে চিকিত্সাসেবা চালিয়ে নেওয়া যায়। এটাকে স্থানীয় রিজার্ভ ফোর্স বলছেন ঐ চিকিত্সক। হাসপাতালটিতে ৪৭ জন চিকিত্সক ও ৬৬ জন ইন্টার্ন চিকিত্সক রয়েছেন। এর বাইরে এখানকার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সকদের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২০০ শয্যার করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত করা যেতে পারে বলে যশোর সেনানিবাস থেকে তাদের জানিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. হারুন-অর-রশীদ।
হাসপাতালে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী যথেষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। সার্জারি বিভাগের সহকারী সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান পান্নু ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি করা রেইনকোট জরুরি বিভাগ ও আউটডোরের চিকিত্সা সংশ্লিষ্টরা ব্যবহার করছেন। প্লাস্টিক বলে এটা ৭০-৮০ ভাগ সুরক্ষা দেয়। এটাকে স্থানীয় লাগসই প্রযুক্তি বলতে পারেন। এটাকে আমাদের মনোবল বাড়ানোর উপকরণও বলতে পারেন। কার্ডিওলোজি কনসালট্যান্ট ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ রোগীর কাছে যাওয়ার জন্য মাস্ক, গ্লাভস ও গগলস অপরিহার্য। এসব প্রস্তুতিসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখা দরকার।
