ক্যাম্পাসেই চাকরির সুযোগ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৮

 

পড়াশোনা শেষ, এবার হবে আসল যুদ্ধ আর তা হলো চাকরির যুদ্ধ। অনার্স কিংবা মাস্টার্স শেষ করে চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়ানো চিত্র নতুন কিছু নয়। তবে প্রযুক্তির এই যুগে সেই ভোগান্তি শেষ হতে চলেছে। বহু প্রতিষ্ঠানকে বর্তমানে দেখা যায় অনলাইনেই চাকরির প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপ সেরে ফেলতে। সেই প্রক্রিয়ায় অনেকটা এগিয়ে এখন আমেরিকান মাল্টি ন্যাশনাল করপোরেশন কাজী আইটি সেন্টার(কেআইটিসি)। চাকরি প্রত্যাশীদের কথা বিবেচনায় এবার তাদের নতুন আয়োজন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গিয়ে যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করা ও চাকরি দেয়া। ‘কেআইটিসি ক্যারিয়ার বুটক্যাম্প’ শিরোনামে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই চাকরি মেলা। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পাশ করা শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহনের সুযোগ পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৫০০ জনকে চাকরি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কাজী আইটির। যাদের নিকুঞ্জ প্রধান কার্যালয়, ধানমন্ডী অফিস ও ঢাকার বাইরে রাজশাহীতে নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এর আগেও কাজী আইটি ঢাকার ভিতরে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছোট পরিসরে চাকরির মেলা করেছে। তাতে সাড়াও মিলেছে বেশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাইক কাজী জানান, তাদের এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। মোট তিনটি অফিসের জন্য তাদের এখন অনেক নতুন মুখ প্রয়োজন। তাই ইংরেজি বলতে, লিখতে, পড়তে পারে এমন যেকাউকেই তিনি আবেদনের আহ্বন জানান। সম্প্রতি তাদের আয়োজিত ক্যারিয়ার বুটক্যাম্পের একটি ধাপ শেষ হয়েয়ে, যা আগামীতে বড় আকারে হবে।  তিনি উল্লেখ্য করেন, যেকোন বিষয় থেকে পাস করেই আবেদন করা যাবে। আইটি ব্যাকগ্রাইন্ডই থাকতে হবে এমনটা নয়। বুটক্যাম্পগুলো চলেছে একটানা তিনদিন যেখানে কয়েকটি ধাপে আবেদনকারির ইংরেজির দক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান প্রমাণ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত যারা টিকে থাকবে তাদেরই মিলবে কাঙ্খিত চাকরি। ভালো বেতনের পাশাপাশি কাজী আইটিতে বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান মাইক কাজী। শুধু তাই নয়, যারা ভালো করবে তাদের মধ্যে থেকে অনেকেরই মিলবে আমেরিকা অফিসে কাজের সুযোগ। এমন সব সুবিধা নিয়ে যোগ্য প্রার্থী খুঁজতে  কাজী আইটির দল যাচ্ছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। সেখানে তারা কয়েক দিন অবস্থান করে যোগ্য কর্মীকে খুঁজে বের করে। গত ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বুটক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউআইইউ এর ক্যাম্পাসে। এছাড়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে ৬ থেকে ৮ নভেম্বর। এরপর ধাপে ধাপে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়, এআইইউবিসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই বুটক্যাম্প। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জগন্নাথ ও ঢাকার বাইরে রাজশাহী ও খুলনাতেও অনুষ্ঠিত হবে এই চাকরির মেলা। এসব নিয়ে মাইক কাজী জানান, আমেরিকার প্রচুর কাজ পাচ্ছেন তারা, তাই এখন কাজী আইটির ভালো কর্মী প্রয়োজন। নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,‘উন্নয়নশীল দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেই ক্ষেত্রে পোশাকের বিকল্প হিসেবে আইটি খাতকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

 এই খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি হলে তা একদিকে চাকরির ঘাটতি পূরণ করবে অন্যদিকে দেশে বসেই বিদেশি রেমিট্যান্স আনা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের উচিত আইটি খাতে কাজের জন্য নিজেদের তৈরি করা।’