কঠিন সময় পার করছি এখন

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ২২:০৭

আমাদের প্রিয় বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে বর্তমানে করোনা ভাইরাস একটি আতঙ্কের নাম। বিশ্বের বড়ো বড়ো রাষ্ট্র যখন বলছে বিজ্ঞান ফেল। লাশের মিছিলে আমি অথবা আপনি যে থাকব না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।  এমন কঠিন মহামারির সময় যখন দেখি কিছু  মানুষ মজা করছে এ বিষয়টাকে নিয়ে, অবাক হই তাদের এমন আচরণে!

বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের অনেককে দেখছি তারা এ বিষয়টা নিয়ে বিভিন্ন রকম গানের ভিডিও করে তা  নিয়ে মজা করছে। এমন কি বড়োরাও থেমে নেই এরকম অবস্থায় মজা করা থেকে বিরত থাকতে। দেশের শিক্ষিত সমাজের কাছ থেকে এমন আচরণ কারোই কাম্য নয়। এরকম বিষয় নিয়ে যারা মজা করে  থাকে তাদের বলা যায় বিকৃত রুচির মানুষ।

কিছু মানুষ মাস্ক পরাকে কেন্দ্র করে যেভাবে হাসিঠাট্টা করে দেখে অবাক হতে হয়। মৃত্যুভয়টাও এখন যেন আর আমাদের মধ্যে নেই। আমরা কি অনেক বেশি আধুনিক হচ্ছি? নাকি আমরা এক অসুস্থ জাতি হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করতে যাচ্ছি? অনলাইনে গেলে দেখতে পাই, মানুষ কতটা অমানুষে পরিণত হচ্ছে ধীরে ধীরে। ১৪ দিনের ছুটি দেওয়াটা ছিল বিশাল একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে। অথচ মানুষ ঈদের ছুটির মতো করে বাড়িতে ছুটছে। আমরা কেউ জানি না এই দুই সপ্তাহ পর আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে। যেখানে বড়ো বড়ো রাষ্ট্র কিছুই করতে পারেনি সেখানে আমাদের দেশ জানি না কতটুকু সামাল দিতে পারবে। অথচ আমরা এ বিষয়টাকে ঠাট্টাতামাশার বিষয় মনে করছি। এর থেকে নিজেদের বের করতে না পারলে সেদিন বেশি দূরে নেই যেদিন আমরা দেখব লাশের সামনে বসে কান্না করার জন্য বা চোখের পানি ফেলার জন্য কেউই থাকবে না।  মৃত্যুটাও তাদের কাছে হাস্যকর বিষয় হয়ে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে এখনই হয়ে গেছে।

দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের ফলে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি কাটাতে যে কতটা সময় পার করতে হবে তার হিসাব নেই। আমাদের দেশেও এ মহামারির প্রাদুর্ভাব যে কী পরিমাণ ক্ষতির সৃষ্টি করে তা দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশের মানুষ। স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণার মাধ্যমে আমরা যেমন স্বস্তিতে আছি তেমনিভাবে চিন্তিত, তারা  যে পরিমাণ পিছিয়ে যাবে তা ভেবে। আমাদের সন্তানরা ঘরেই অলস সময় কাটাচ্ছে। এটা তাদের মানসিকতার মধ্যেও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। আর ঘরে বসে তারা পড়ায়ও মন বসাতে পারছে না। সব সময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মনে। এই লম্ব্বা ছুটির কারণে তাদের পড়াশোনার যে ক্ষতি হচ্ছে তা কতদিনে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে তা চিন্তার বিষয়। বাসার টিচার, কোচিং, স্কুল সব বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তারা বাসায়ও পড়তে চাচ্ছে না। যারা এ ছুটিতে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে তাদেরও  ঠিক তেমনিভাবে পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কবে নাগাদ পরীক্ষা হবে তাও অনিশ্চিত। আমরা বর্তমানে অনেক কঠিন সময় পার করছি। তার মধ্য থেকে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউই আমাদের উদ্ধার করতে পারবেন না। সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে এর মোকাবিলা করতে হবে। শুধু সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না, আমাদের নিজেদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। দেশের জন্য এবং বেঁচে থাকার জন্য সবার উচিত সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে আইন মেনে কাজ করা। অতিপ্রয়োজন না থাকলে ঘর থেকে বের না হওয়া। মনে রাখতে হবে নিজে সচেতন হলে আমার  ঘরের অন্য সদস্যরা  সচেতন হবে, এর থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র। তবেই সম্ভব হবে আমাদের এ মহামারি থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারবে আমাদের দেশকে সুন্দরভাবে আবার সবার জন্য বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলতে। দেশে আইন আছে তবে তা মানছে কয়জন? আমাদের উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা।

n লেখক :সাবেক শিক্ষার্থী,

নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ