সুন্দর এই পৃথিবীতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য দরকার দূষণমুক্ত পরিবেশ। অথচ নানাবিধ দূষণ প্রক্রিয়ায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে চতুর্দিক। এমনিতেই নানা রকম সমস্যায় মানুষ অতিষ্ঠ এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। বর্তমান সময়ের বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলোর বিশেষ শিরোনাম হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে। যা চীনের উহান শহর থেকে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়েছে।
সকলের জানা বাংলাদেশ কতোটা জনবহুল দেশ। এমতাবস্থায় করোনার বিস্তার লাভ অতি মাত্রায় সহজ। এ থেকে সহজেই আঁচ করা সম্ভব কতোটা বিপদের মুখে। ভয়াবহ সীমার মাঝে আছে সোনার বাংলাদেশ। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখতে পাই সংক্রামক রোগীর সংখ্যা যত্সামান্য। ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান পরিস্থিতি সুবিধাজনক নয়। ইতালি, জার্মানির মতো শক্তিশালী দেশ যেখানে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলায় হিমশিম, দিনে হাজারো সুস্থ দেহ আক্রান্ত থেকে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েই যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ কিছু দিন পর কি অবস্থানে যেতে পারে সকলের অনুমানযোগ্য। এ দেশের সাধারণ জনগণ এই বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান না থাকার কারণে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং আক্রান্ত হলে কীভাবে এ থেকে রক্ষা পাবে সেটার উপায়ও অনেকের কাছে অজানা। ফলে অধিকাংশই শৃঙ্খলাহীন, অবিন্যস্ত দিনযাপন করছে। প্রকৃতির এ শাস্তিতে কোনো মানুষ রেহাই পাচ্ছে না।
পুরো পৃথিবী আজ গতিহীনতায় ভুগছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত বন্ধ এমনকি বাসা থেকে বের হওয়া নিষেধ করা হয়েছে যাকে বলা হয় লকডাউন। বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি লকডাউন হয়নি। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, টেলিফোন, বিপণি কেন্দ্র, রাস্তার মোড় সব জায়গায় এটাই প্রধান আলোচ্য বিষয়। বয়স, জাতি, লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকলেই সমানভাবে করোনার দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। এখনো যদি আমরা সচেতন না হই এই মরণব্যাধিকে আটকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে আরো জোরদার প্রতিরোধ কার্যক্রম যদি গ্রহণ করা না হয় তাহলে চীন, ইতালির মতো চিত্র ধারণ করতে বেশি সময় লাগবে না। মহামারি গতিকে স্তিমিত করতে পারে কেবল সৃজনশীল আর কার্যকরী প্রতিরোধ কার্যক্রম। জনগণকে মৌলিক তথ্যাবলীর ধারণা দিতে হবে। আতঙ্কে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। খুব বেশি সচেতনতাই পারে আমাদেরকে নিরাপদে রাখতে। যদিও করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে এগিয়ে আসছে সমাজের নানা স্তরের মানুষ। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষত তরুণ সমাজকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে নিরাময় করা কোনো কঠিন কাজ হবে না। মহাবিপর্যয়ের পূর্বেই যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ প্রলয়ের শেষ কবে, এরপর কি নতুন পৃথিবীর জন্ম। শক্তি, সাহস, স্পৃহা, শৃঙ্খলাই পারে প্রাণঘাতী করোনাকে প্রতিরোধ করতে। সকলের মনে রাখতে হবে একটু অসচেতনতাই নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে পারে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে জনসচেতনতা জরুরি। জীবন বাঁচাতে হলে সচেতন হতে হবে। কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। হেলাফেলা করলে চলবে না। ব্যবস্থা ফলপ্রসূ করতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়া একান্ত জরুরি। করোনা ভাইরাস নিয়ে উচ্চ আদালত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কিছু মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সামনে যেন কারোর পরিস্থিতি খারাপ না হয় সেজন্য সকলকে জারি করা নিয়ম মেনে চলতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
