শখের নার্সারিতে বেকারত্ব মোচন

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ২২:১০

আড়াইহাজারে শিক্ষিত বেকার তরুণদের কাছে নার্সারি পেশা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগানের গাছপালার প্রতি মানুষের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে নার্সারির ধারণা এবং সে সঙ্গে তার কর্মকাণ্ড অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। নার্সারিতে ফুল, ফল, সবজি, মসলা, অর্কিড, ক্যাকটাস ও ফার্নের চারা উত্পাদন করা হয়। মানুষের আয়, নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে রুচি ও সৌন্দর্যবোধের পরিবর্তন ঘটেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষিতে পদকপ্রাপ্ত কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবদুল কাদির জানান, আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোটো বড়ো ৬০টি নার্সারি আছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে একটি এবং অবশিষ্ট নার্সারিগুলো ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত। এর মধ্যে ১৫টি নার্সারি সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে রেজিস্ট্রেশন করা হবে। এ উপজেলার অত্যন্ত সমৃদ্ধ নার্সারির মধ্যে বিনাইরচরের জহিরুলের সবুজ ছায়া নার্সারি, মুকুন্দির ইমান আলীর বনছায়া নার্সারি, জালাকান্দির রহিজ উদ্দিনের দেশগড়ি নার্সারি, কামরানীরচরের নাসিরউদ্দিনের নাসরিন নার্সারি, রামচন্দ্রদীর ফারুকের ফারুক নার্সারি, বিনাইরচরের মোশারফ হোসেনের ফাহাদ নার্সারি, সুলপানদির গুল রায়হানের সবুজ বাংলা নার্সারি অন্যতম। তিনি আরো জানান, উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে ও পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলায় ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং সৌন্দর্যময় বিভিন্ন চারা ও টব বিক্রি করে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী আনোয়ার হোসেন জানান, যেকোনো মানুষ নিজের কর্মসংস্থানের জন্য পেশা হিসেবে নার্সারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে নার্সারি স্থাপনে উদ্যোক্তাদের যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো নার্সারি যেন সহজেই মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। নার্সারি অবশ্যই বড়ো সড়ক, মহাসড়ক, শহর বা বড়ো বাজারের কাছাকাছি অবস্থানে, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়। নার্সারির স্থান উঁচু, বন্যামুক্ত এবং সেচ সুবিধাযুক্ত স্থানে হতে হবে।