চৌদ্দগ্রামে ইটভাটায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে ৭ হাজার শিশু, নারী ও পুরুষ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ২২:১৬

সারাদেশ যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হোম কোয়ারেন্টাইনসহ লকডাউন চলছে। ঠিক তার উলটো চিত্র কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ৪৮ ইটভাটায়। এ ইটভাটাগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে ৭ হাজারের বেশি নারী, শিশু ও পুরুষ। প্রশাসনের দাবি, এসব ইটভাটার শ্রমিকরা অনেকটা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে।

শনিবার উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নারী, পুরুষ ও শিশু শ্রমিকরা করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিক পক্ষ ও মাঝির নির্যাতনের কারণে তারা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। শ্রমিকরা মুখে মাস্ক ছাড়া সকাল থেকেই কাজ করছে। অনেকে আবার দলবদ্ধ হয়ে চা দোকানে মানুষজনের সঙ্গে খোশগল্পসহ চা পান করছে। ফলে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি বেড়েই চলছে চৌদ্দগ্রামে। কয়েকটি ইটভাটায় সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে মালিক ও ম্যানেজার পালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের দৌড়ে পালাতে বলে।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক সমিতি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার তথ্যমতে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা রয়েছে ৪৮টি। ইটভাটাগুলো হচ্ছে; নালঘরের মেসার্স আহম্মদ ব্রিকস্, নোয়াবাজারের এমরান ব্রিকস্, হাড়িসর্দারের নূপুর ব্রিকস্, হাজেরা ব্রিকস্, পদুয়া বাজারের বাংলাদেশ ব্রিকস্, পদুয়া ব্রিকস্, ছাতিয়ানীর ফাতেমা ব্রিকস্, চাঁনকরার সততা ব্রিকস্, আমানগন্ডার বেলাল ব্রিকস্, মেষতলার ভাই ভাই ব্রিকস্-১, ভাই ভাই ব্রিকস্-২, কাপড়চতলীর পাটোয়ারী ব্রিকস্, নাটাপাড়ার অর্পিতা ব্রিকস্-১, নানকরা অর্পিতা ব্রিকস্-২, নবগ্রামের মালেক ব্রিকস্, সত্যপুর মেষতলীর নিউ মালেক ব্রিকস্, সৈয়দপুরের খালেক ব্রিকস্, সাকুরা ব্রিকস্, চিওড়ার চিওড়া ব্রিকস্, গোলাইকরার মতিন ব্রিকস্, কাছিয়া পুস্করণীর রহমত ব্রিকস্, বসন্তপুরের সালেহা ব্রিকস্, লাকসাম রোডের স্বদেশ ব্রিকস্, বাঙ্গালমুড়ির কোয়ালিটির ব্রিকস্, নারায়ণপুরের হুমায়ন ব্রিকস্, কাজী অ্যান্ড কোং, একতা বাজারের অনিক ব্রিকস্, লালারপুলের জনতা ব্রিকস্, পায়েরখোলার এফআরএস ব্রিকস্, ভাজনকরার নিউ মা ব্রিকস্, ধনুসাড়ার আমানত ব্রিকস্, একতা ব্রিকস্, আলকরার সাতছর হাজারী ব্রিকস্, বল্লাচৌর হাসেম ব্রিকস্, বাহেরগড়ার শাহ সাহেব ব্রিকস্, নারায়ণপুরের মিরাজ ব্রিকস্, খাদিজা ব্রিকস্, শামুকসারের শাহনাওয়াজ ব্রিকস্, ধনমুড়ির মুক্তি ব্রিকস্, মিরশান্নীর আলী নূর ব্রিকস্, শাহাপুরের আর এন ব্রিকস্, শ্রীপুরের শ্রীপুর ব্রিকস্, চাঁন্দশ্রীর জিনিয়াস ব্রিকস্, বসন্তপুরের মা ব্রিকস্, নোয়াপাড়ার যমুনা ব্রিকস্ ও আবদুল্লাপুরের ছোবহান ব্রিকস্।

চৌদ্দগ্রামের সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকার যে মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ না ছড়াতে ১০ দিনের ছুটিসহ গণপরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি ভিড় এড়িয়ে চলে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঠিক সে মুহূর্তে কেন চৌদ্দগ্রামের ইটভাটার মালিকরা কয়েক হাজার শ্রমিককে ছুটি না দিয়ে দিনের পর দিন কাজ করতে বাধ্য করছে। অবিলম্বে প্রশাসন যেন ইটভাটাগুলোর দিকে নজর দেয়।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘ইটভাটার শ্রমিকরা ভাটা থেকে বের হচ্ছে না। তারা অনেকটা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে’।