সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও আইডি কার্ড জমা নিয়ে কারখানা থেকে বের করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার পলমল গ্রুপের সাফা সোয়েটার ও জাহিন টেক্সটাইলের শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। অন্যদিকে ছুটির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকার টি আর জেট গার্মেন্টের শ্রমিকেরা। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের জেরে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেতন ও ছুটির দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা কারখানার পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করেন। পরে শিল্প পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অন্যদিকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকার জাহিন টেক্সটাইল পোশাক কারখানার শ্রমিকেরাও গতকাল বেতন ও ছুটির দাবিতে বিক্ষোভ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কারখানার সুয়িং অপারেটর মাহমুদা বেগম জানান, গত বুধবার বিকালে কারখানায় কাজ চলাকালে কিছু শ্রমিককে উত্পাদন ব্যবস্থাপক (পিএম) ডেকে নিয়ে যান। পরে তিনি একজন একজন করে তার কক্ষে নিয়ে জোর করে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন এবং তাদের কারখানার আইডি রেখে বাইরে বের করে দেন।
কারখানার জি এম এখলাছুর রহমান মুকুল জানান, শ্রমিকদের কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও কার্ড নেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। ঐ একটা অপপ্রচার। কয়েক জন শ্রমিক মূলত ছুটি দাবি করে কারখানায় অসন্তোষ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান জানান, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মহানগরীর কয়েকটি গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা সকাল থেকে বিক্ষোভ করেন। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একই দাবিতে এদিন শ্রীপুর গুলশান স্পিনিং মিলস এবং এ এ ইয়ার্ন মিলস কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে এলে তাদেরও ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়। পরে আন্দোলন ত্যাগ করে শ্রমিকেরা চলে যান।
এছাড়া গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকার বেইস ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে গতকাল সকাল থেকেই বিক্ষোভ করেন। কারখানাটি বর্তমানে মাস্ক ও পিপিই উত্পাদন করছে।
শ্রমিকেরা জানান, কারখানায় নিরাপদে হাত ধোয়া, পয়োনিষ্কাশন, মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করা কিংবা বেশি বেশি পানি খাওয়াসহ হাইজিন রক্ষার যাবতীয় নিয়ম পালন করার সুযোগ নেই।
