ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কুড়িগ্রামের ডিসি ও যশোরের এসিল্যান্ড যখন নিন্দিত, তখন বৃদ্ধকে মহানুভবতা দেখিয়ে রীতিমত ভাইরাল রাজশাহীর ডিসি হামিদুল হক। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু উপায়হীন প্রায় ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ জীবিকার তাগিদে তানোর সদরে কাগজ কুড়াতে বের হন। তাকে দেখে এগিয়ে যান জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। এ সময় ভীতসন্ত্রস্ত বৃদ্ধ ডিসিকে দেখেই হাতজোড় করে ক্ষমা চান। আবেগাপ্লুত ডিসি চাল-ডাল কেনার টাকা দিয়ে বৃদ্ধকে বাড়িতে পাঠান। রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদরের এ ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। মানবিক আচরণের প্রশংসায় ভাসছেন ডিসি।
শুক্রবার বিকেলের এ ঘটনা প্রসঙ্গে তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান জানান, ঐ বৃদ্ধ তানোর পৌর এলাকার কুটিপাড়ার বাসিন্দা। তাকে কেউ বংশা আবার কেউ লালু নামে ডাকেন। ঘরে তার বৃদ্ধা স্ত্রীও মানসিক ভারসাম্যহীন। একমাত্র ছেলে বিয়ে করে পৃথক বসবাস করেন। ফলে স্ত্রীকে নিয়ে দুই জনের সংসার খরচ চালাতে তিনি কখনো ভিক্ষা করেন। কখনো তানোর হাটে কাগজ কুড়িয়ে বিক্রি করে সংসারের খরচ সংগ্রহ করেন।
এদিকে তানোর থেকে ফিরে ‘জীবিকার প্রয়োজন ও করোনা’ শিরোনামে নিজের ফেসবুক পেজে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেন ডিসি হামিদুল হক। শুধু তাই নয়, শনিবার সকালে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে ঐ বৃদ্ধের খোঁজ নিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘তানোরের ইউএনওর কাছ থেকে ঐ বৃদ্ধের সার্বিক তথ্য চেয়েছি। বৃদ্ধের বাড়ি-ঘর মেরামত করার প্রয়োজন হলে আমরা তা করে দেব। তাছাড়া তার আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করতে আমরা উদ্যোগ নেব।’
