রংপুর মেডিক্যাল কলেজে করোনা ভাইরাস শনাক্তে পিসিআর মেশিন এলেও আগামী সোমবার নাগাদ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। নভেল করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য এখন পর্যন্ত কিট এসে পৌঁছেনি রংপুরে। তবে মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে। রংপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা গত চার দিনে প্রায় ১০০ জনের মতো কমেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নুরুন্নবী লাইজু জানান, হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় যে মেশিন আনা হয়েছে এর কার্যক্রম শুরু হতে আরো তিন থেকে চার দিন লাগতে পারে। এর মধ্যে করোনা পরীক্ষার কিটও এসে পড়বে। আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
অধ্যক্ষ লাইজু জানান, করোনা বিস্তার রোধে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর পক্ষ থেকে রংপুরে একটি মেশিন দেওয়া হয়েছে। পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত সন্দেহ হলে রোগীর রক্ত, ঘাম ও কফ পরীক্ষা করা হবে। কলেজের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই মেশিন পরিচালিত হবে। এজন্য দুজন ডাক্তার ও দুজন টেকনেশিয়ানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের পরীক্ষা করবে।
এদিকে রংপুরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে উদ্বুদ্ধ করছেন তারা। সঙ্গে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে। অপরদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গত ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে করোনা প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটি করপোরেশনের ১৫০ জন কর্মী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে কাজ করছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও পয়েন্টে ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক। ২টি পানিবাহী গাড়ি প্রতিদিন একাধিকবার নগরীর প্রধান সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। রংপুর সিভিল সার্জন ডা. হিরন্ব কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, সচেতনতামূলক কার্যক্রমে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা কমেছে। আগে ছিল ২৫০ জনের ওপর। তা কমে এসেছে ১৪৭ জনে।
