করোনা আতঙ্কে সরকারের নির্দেশে সকলেই এখন যার যার ঘরে অবস্থান করছেন। তারকারাও এর বাইরে নন। আর এই হোম কোয়ারেন্টাইনের ফলে সংক্রমণ যেমন কমছে, পাশাপাশি দেশীয় শিল্পীরা নানাভাবে সচেতনতামূলক ভিডিও বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ তারকাদের ভেতরে ভারতের কণ্ঠশিল্পী কনিকা কাপুরের কথা শোনা গিয়েছে যে, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
কিন্তু গতকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশের চিত্রনায়ক কাজী মারুফ ও তার স্ত্রীর করোনায় আক্রান্তের খবর এসেছে। তবে এই খবরেও খানিকটা দ্বিধা রয়েছে। কারণ কাজী মারুফের বাবা প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক কাজী হায়াত্ জানিয়েছেন যে, কাজী মারুফ ও তার স্ত্রীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। অন্যদিকে কাজী মারুফ বলছেন, এটা তীব্র জ্বর ছাড়া কিছু নয়। উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’ ছেলের এই খবরে উদ্বিগ্ন বাবা কাজী হায়াত্ বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ মারুফের স্ত্রীর উপসর্গগুলো একেবারেই মিলে যায়। অর্থাত্ জ্বর-কাশি আর বমি।’ তার ১ ঘণ্টা পর মারুফেরও শুরু হয়। তখনই তারা বাচ্চাদের আলাদা ঘরে আটকে নিজেরাও আইসোলেশনে চলে যায়। নিউইয়র্কে অন কল ডাক্তারদের ফোন দিলে ডাক্তাররা প্রথমে পরীক্ষা করছেন না, বরং ওষুধের কথা বলছেন বা বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন আর আলাদা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা সবাই জানি এখন সারাবিশ্বের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। আর গোটা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নিউইয়র্কের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিউইয়র্কে এ বাড়ি ও বাড়ি করোনা নিয়ে নানা গুঞ্জনও চলছে। তাই সবাই যার যার মতো করে সাবধানতা অবলম্বন করছে। এ নিয়ে আমি একটি অনলাইন দৈনিকে বলেছি। ছেলের করোনায় আক্রান্ত হওয়া নিয়ে কেন বিভ্রান্তি থাকবে। কিন্তু আমাদের দেশে একখান ফেসবুক আছে। যেখানে যেকোনো বিষয় নিয়েই আমরা তর্কযুদ্ধ শুরু করে দিই। তাই আমি সবার প্রতি অনুরোধ করবো প্লিজ পারলে দোয়া করবেন। কোনো উল্টোপাল্টা মন্তব্য করবেন না। পরশ্রীকাতরতা যেমন অন্যায়, প্রতিহিংসা তার চেয়েও গুরুতর অন্যায়। আমার ছেলে ও পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। এটাই সবচেয়ে জরুরি।’
কাজী হায়াত্ আরও বলেন, ‘ কিছুদিন আগে ওর শ্বশুর, শাশুড়ি ও আমাদেরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই করোনা পরিস্থিতির কারণে যাওয়া হয়নি। আগামী ১ অথবা ২ এপ্রিল ওদের (মারুফের পরিবার) ফেরার কথা ছিল।’ এদিকে কাজী মারুফের দীর্ঘদিনের সহকর্মী শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘আমরা মারুফ ভাইয়ের সঙ্গে ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি, তারা ভালো আছেন। এমনিতেই এখন নিউইয়র্কেও করোনা পরিস্থিতি ভালো না। আর বাঙালি কমিউনিটিতে গুজব রটছে খুব। আমি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শ্রাবন্তীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তার প্রতিবেশী এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল আঁখির সঙ্গেও কথা বলেছি, তারা ভালো আছেন। কাজী হায়াত্ সাহেব মনে হয় কিছুটা ভুল বুঝেই গণমাধ্যমে এ কথা বলছেন।’ কাজী মারুফ বলেন, ‘এটা ঠিক যে আমার স্ত্রী জ্বরে আক্রান্ত। তবে তা এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস নয়। আমি শতভাগ সুস্থ আছি। আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত আমার কোনো সমস্যা নেই।’ তবে যাই হোক, কাজী মারুফের পরিবারের সবার সুস্থতা কামনা করাটাই এখন জরুরি। ফেসবুকে তাকে নিয়ে বিভিন্নরকম বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য তার পরিবার ও ভক্তদের আরও উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
