করোনা ভাইরাসের কারণে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অফিস-আদালত, দোকান ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া সবকিছু বন্ধ রয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এমন অবস্থায় হোটেল কর্মচারী, বেকারি কর্মচারী, গণপরিবহনের শ্রমিক এবং কৃষি শ্রমিকসহ হাজার হাজার খেটে খাওয়া মানুষ চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় তারা সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে। এ অবস্থায় তিনি অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের প্রতি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইতিমধ্যে চলতি মাসে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ২২ হাজার ২৩৪টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ কেজি করে চাল এবং ৩ হাজার ৪৪৭টি ভিজিডি কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে অসহায় দরিদ্র ও হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের জন্য পাঁচ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। যা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে তালিকা করে ট্যাগ অফিসার ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে ৫০০ পরিবারের মধ্যে দেওয়া হবে।
ভৈরবে বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশের মতো ভৈরবে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সড়ক, রেল ও নৌপথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। যারা দিন আনে দিন খায়, এসব খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা আয় রোজগার করতে না পারায় ছেলেমেয়েসহ পরিবার নিয়ে খাদ্য সংকটে পড়েছেন। তাদের দাবি, সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াবে।
কর্মহীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। সরেজমিনে উপজেলার গুল্টা, গুড়পিপুল, খোদবাড়ী ও মাধাইনগর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, করোনার আতঙ্কে অনেকটা গৃহবন্ধী সব শ্রমজীবী মানুষ। কাজ করতে না পেরে তারা অলস সময় পাড় করছেন। কৃষি শ্রমিক অনিমা উরাঁও, প্যনতি উরাঁও, কমলা উরাঁও, স্বারতী উরাঁও, রঞ্জনা রানী, স্বপন এক্কা, বাদল এক্কা, মিলন কুজুর ও শিপন কুজুর বলেন, তাদের বাড়িতে দুই দিনের খাবারও মজুত থাকে না। প্রতিদিন কাজ শেষে মালিকের দেওয়া মজুরির টাকায় তাদের প্রতিদিনের খাবার জোটে। এই সময়টাতে মাঠে অনেক কাজ থাকলেও করোনা ভাইরাস আতঙ্কে জমির মালিকরা তাদের কাজে নিচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তারা তুলনামূলক কম দামে আগাম শ্রম বিক্রি করে দিচ্ছেন। ধারদেনায়ও জড়িয়ে পড়েছেন অনেকে।
জমির মালিক ছাত্তার প্রামাণিক, দুদু মিঞা, এসহাক আলী, হান্নান প্রামাণিক ও এনছাব আলী বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকরা সাধারণত সব ধরনের কাজই দলগতভাবে কাজ করে। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা তাদের জন্য মুশকিল। তাই ঐসব শ্রমিকদের কোনো কাজে লাগাতে পারছেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত জাহান বলেন, কর্মহীন অতি দরিদ্রদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দ্রুত তালিকা চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শ্রমজীবী মানুষকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করারও পরামর্শ দেন।
