নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা সরকারি হাসপাতালের চিত্র বদলে গেছে। প্রতিদিন শত শত রোগীর মেলা বসত যে হাসপাতালে তা এখন প্রায় রোগী শূন্য। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে না কদিন ধরে। বহির্বিভাগেও রোগী আসছে না তেমন। সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র দুই জন রোগী ভর্তি হয়েছেন প্রসূতি বিভাগে। বহির্বিভাগের কাউন্টারে রোগীর সারি নেই। যে দুই-একজন ছিলেন তারাও এসেছেন পেট ব্যথা, বুক ব্যথার চিকিত্সা নিতে। শহরের নতুন বাবু পাড়া থেকে আসা রোগী জয়নুল হকের (৪৫) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বুকে সামান্য ব্যথা তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন সেবিকা বলেন, হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন। সে চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দিন দিন রোগী কমতে শুরু করেছে এ হাসপাতালে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও) আরিফুল হক সোহেল জানান, আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের হাসপাতালে ৪৮টি আইসোলেশন ও ৪০টি কোয়ারেন্টাইন বেড নিয়ে পৃথক ইউনিট খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফাঁকা পড়ে আছে বেডগুলো। তবে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে রোগীরা হাসপাতালে আসতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে আমরা মুঠোফোনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছি। তিনি জানান, এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে একজনও শ্বাসকষ্টের রোগী আসেননি। নিউমোনিয়ার রোগীও পাচ্ছি না আমরা। তবে আমরা সজাগ রয়েছি । সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার জানান, আমাদের এখানে ৩৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে। ১৪ দিন অতিবাহিতের পর চার জনকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ হাসপাতালে ডাক্তার আছে রোগী নেই
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে না এসে উপায় নেই এমন দুই-একজন রোগী এসে জরুরি বিভাগে চিকিত্সা নিয়ে তাড়াহুড়া করে চলে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রীর সরবরাহ না থাকায় শঙ্কায় রয়েছে চিকিত্সক ও নার্সরা। অন্য সময় দেখা গেছে ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী বিভিন্ন বিভাগে চিকিত্সা নিত কিন্তু বর্তমানে বহির্বিভাগ প্রায় রোগী শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইসমত জেরিন জুই জানান, করোনা সংক্রান্ত পরিস্থিতিই হাসপাতালে রোগী না আসার অন্যতম কারণ। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে চাইলে মেডিক্যাল অফিসার (ডিজিস কন্ট্রোল) ডাঃ নাবিলা হাসান মুনা জানান, সরকারি হিসাব মতে এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন বিদেশ থেকে এসেছে। এদের মধ্যে ১০৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পেরেছি। অন্যদের দেওয়া ঠিকানায় তাদের পাওয়া যায়নি, যারা কোয়ারেন্টাইনে ছিল তাদের মধ্যে ২৭ জন ছাড়া সবাইকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে । এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেলেও চিকিত্সার জন্য রোগীদের হাসপাতালের মোবাইল হটলাইন নাম্বার দেওয়া হয়েছে, এ নাম্বারেই ফোন করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগীরা সেবা নিচ্ছেন, বিশেষ ক্ষেত্রে এ সেবার মান আরো বাড়ানো হবে।
