মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়ছে সর্বত্র। দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ। ফলে জরুরি ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। আর বিশ্বব্যাপী প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রায় বন্ধ। সামনের এফডিআই ব্যাপকহারে কমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আংকটাড। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে এফডিআই নিয়ে সংস্থাটি বলছে, ২০২১ সাল নাগাদ বিশ্ব জুড়ে এফডিআই প্রবাহ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে ‘স্পেশাল ইস্যু অফ দ্য গ্লোবাল ইনভেন্টমেন্ট ট্রেন্ডস মনিটর’ এ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
আংকটাডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে বৈশ্বিক এফডিআই প্রবাহ ছিল ১ দশমিক ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার। এর আগের বছর যা ছিল ১ দশমিক ৪১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে বিশ্ব জুড়ে এফডিআই কমেছিল ১ শতাংশ। বৈশ্বিক এফডিআইয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে—এমন শীর্ষ ৫ হাজার বহুজাতিক কোম্পানি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছর বিভিন্ন খাতে ৩০ শতাংশ আয় কম হবে। আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতে আয় ২০০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধারা আরো খারাপ দিকে যাবে বলে এসব কোম্পানি পূর্বাভাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্টের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিষয়ক প্রধান ও পরিচালক জেমন এক্স হান বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকানোর জন্য নেওয়া ব্যবস্থা ও লকডাউনের কারণে এফডিআই ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। কারখনা বন্ধ বা উত্পাদন কমে যাওয়ায় মূলধনী ব্যয়, নতুন বিনিয়োগ ও কারখানা সম্প্রসারণের মতো কাজগুলো থমকে দাঁড়িয়েছে। এতে মুনাফা কমে যাওয়ায় এফডিআইর অন্যতম অংশ আয় থেকে পুনর্বিনিয়োগ সম্ভব হবে না। এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথম কোয়ার্টারে এফডিআই ৭০ শতাংশ কমে গেছে। নতুন এ মহামারির কারণে ভবিষ্যতে এফডিআই আসার যে সম্ভাবনাগুলো ছিল সেগুলোও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মহামারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা যতটা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছে। এর ফলে, বৈশ্বিক ভ্যেলু-চেইন স্থবির হয়ে পড়েছে, একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী স্থানীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়তে পারে। করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন আগামী জুনের ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্টে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
