ডানা নেই তবু উড়তে জানে!

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪০

সত্যিই প্রাণিজগত্ এক বিস্ময়। বৈচিত্র্যের শেষ নেই। প্রাণিজগতে যারা উড়তে পারে তাদের বলা হয় পাখি। পাখিদের ডানা আছে আর সেই ডানা বাতাসে মেলে তারা উড়ে বেড়ায় আকাশে। তবে  এমন কিছু প্রাণী আছে যারা উড়তে পারে—কিন্তু তাদের ডানা নেই। এসব প্রাণিদের সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক—

উড়ুক্কু ব্যাঙ

বিশেষ একধরনের ব্যাঙ হচ্ছে ‘গেছো ব্যাঙ’। গাছে গাছেই থাকে তাই এই নাম। তবে এরাই কিছু বিশেষ ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য ব্যাঙের চাইতে দেখতে একটু বেঢপ আকৃতির হয়। এদের হাত-পা একটু বেশিই লম্বা লম্বা ধরনের আর সেই লম্বা লম্বা হাত-পায়ের সাহায্যে এরা ধাক্কা দিয়ে উঠে পড়ে শূন্যে। বাতাসে ভেসে এরা এভাবে পাড়ি দিতে পারে অনেকটা পথ। তারপর আবার যেখানে খুশি সেখানে নেমে আসতে পারে নির্বিঘ্নে।

উড়ু উড়ু সাপ

অনেক ভয়ের একটা প্রাণী এই সাপ। দেখলেই কেমন শিউরে উঠি, না? আর আমরা তো জানি সাপ হচ্ছে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। তবে পৃথিবীতে এমন প্রজাতির সাপ আছে যারা বাতাসে ভেসে পথ পাড়ি দিতে পারে। এই সাপদের বলা হয়ে থাকে—উড়ুক্কু সাপ।  এই উড়ুক্কু সাপগুলোর শারীরিক গঠনও একটু আলাদা ধরনের। একটু ব্যতিক্রমী! লেজের শেষ মাথা দিয়ে বিশেষভাবে অনেক জোরে মাটিতে ধাক্কা দেয়। সেই ধাক্কায় যে গতি উত্পন্ন হয়, তা ব্যবহার করেই এরা মাথাটাকে শূন্যের দিকে দিয়ে শরীরের ভর টেনে নেয় সামনের দিকে।

গিরগিটি

উড়ুক্কু প্রাণীদের মধ্যে কিন্তু গিরগিটি অন্যতম। মোটা চামড়া আর ভাবলেশহীন ভাবভঙ্গি দেখেই সম্ভবত এদেরকে খানিকটা ডাইনোসরের মতো মনে হতে পারে। তবে এরা কোনো ডাইনোসরের প্রজাতি নয়। গিরগিটি আছে নানা প্রজাতির। তার মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি আবার কৌশল করে ভেসে মানে উড়ে বেড়াতে পারে। যে সব গিরগিটি বাতাসে ভেসে বেড়ায় তাদের শরীরের দুই পাশে থাকে একটু বাড়তি চামড়া। এই চামড়া অনেকটা পাখির ডানার মতো কাজে দেয়। এই চামড়া আবার উড়ুক্কু গিরগিটিরা ভাঁজ করে লুকিয়ে রাখতে পারে তাদের শরীরের দুই পাশে।

পেঙ্গুইন

পেঙ্গুইনরা দেখতে অনেকটা পাখির মতো হলেও কিন্তু এরা পাখি নয়। ভারী শরীরের পেঙ্গুইনের ডানা তার দেহের তুলনায় আকারে অনেক ছোট। একবার সংবাদসংস্থা বিবিসি’র একজন ক্যামেরাম্যান কিং জর্জ আইল্যান্ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র বানানোর সময় হঠাত্ তাঁর ক্যামেরায় দেখেন—এক ঝাঁক পেঙ্গুইন তাদের ডানা মেলে উড়ে চলেছে আকাশ দিয়ে! গবেষকরা ধারণা করছেন, এইসব পেঙ্গুইন এভাবে উড়ে অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর উড়োপথে পাড়ি দিয়ে যায় আমাজনের রেইনফরেস্টে। অবিশ্বাস্য হলেও এ ঘটনা সত্য। 

 

উড়ন্ত কাঠবেড়ালি

কাঠবেড়ালি তো সবারই চেনা, তবে এমন কিছু কাঠবেড়ালি আছে যারা বাতাসে ভাসতে পারে। আর এ ক্ষমতা তারা এগাছ থেকে ওগাছে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করে। এজন্য কাঠবেড়ালিরা কোনো গাছের উঁচু ডাল থেকে লাফিয়ে পড়ে তারপর শূন্যে ভাসতে থাকে। এসময় বেড়ালের মতো কাঠবেড়ালির পায়ের নিচে থাকা নরম মাংসপিণ্ড তাকে সাহায্য করে নির্বিঘ্নে নেমে আসার জন্য।