করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টিতে এবার নিজেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সামনে বৃত্ত তৈরি করে জনগণের মাঝে অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে বেশ আলোচিত হয়েছেন কুমিল্লার লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইয়াসির আরাফাত। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তার এমন উদ্যোগ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। এতে ঐ উপজেলায় সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টিতে সচেতনতা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এরই মধ্যে জনগণের মাঝে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টিতেও নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে জেলার লালমাই উপজেলার যুক্তিখোলা বাজারে যান ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাত। এ সময় ঐ বাজারের সেবা মেডিক্যাল হলে গিয়ে দেখেন দোকানে দূরত্ব চিহ্ন না থাকায় ঐ ফার্মেসিতে ক্রেতারা জড়ো হয়ে ওষুধ সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রশাসনের কর্মচারীদের মাধ্যমে রং সংগ্রহ করে দোকানের সামনে দূরত্ব চিহ্ন এঁকে দেন ইউএনও। এছাড়াও ভুশ্চি ও বাগমারাসহ বিভিন্ন বাজারে তিনি জনসচেতনতায় এভাবেই বৃত্ত অঙ্কন করে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ূবসহ অন্যরা।
সেবা মেডিক্যাল হলের পরিচালক ইন্দ্রজিত দেবনাথ জানান, ‘ইউএনও স্যার আমার ফার্মেসির সামনে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টিতে নিজেই রং নিয়ে বৃত্ত এঁকেছেন, এটা আমি কল্পনাও করিনি। তার এমন উদ্যোগ আমাদের সচেতনতা বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন থেকে ক্রেতারা বৃত্তের মধ্যে থাকলেই আমরা ওষুধ সরবরাহ করব। আগে সচেতনতা, তারপর বিক্রি।’
ইউএনও কে এম ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হলে অন্যের সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একমাত্র সামাজিক সচেতনতাই পারে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বেচা-কেনা করা যায় তা হাতে-কলমে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে অঙ্কন করেছি। কেবল সচেতনতাই আমাদের সকলকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।’
