করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে রোগীশূন্য সরকারি হাসপাতাল কুমুদিনীকে লকডাউন করা হয়েছে। যেখানে প্রতিনিয়ত ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিত। সেখানে গতকাল ৫২ জন রোগী লকডাউনে রয়েছেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি হাসপাতালে একজন রোগীও ভর্তি নেই। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও একই অবস্থা। রোগী শূন্য থাকায় বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
গতকাল রবিবার কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে প্রতিনিয়ত ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিত্সাসেবা পেত। এছাড়া বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিত্সাসেবা পেত। গতকাল এখানে মেডিসিন ওয়ার্ড, সার্জারি ওয়ার্ড, শিশু বিভাগ ও গাইনি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাত্র ৫২ জন রোগী লকডাউনের মধ্যে রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছেন। কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেশ ভৌমিক লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, করোনার কারণে হাসপাতালে রোগী কমে গেছে। নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে পুরো হাসপাতাল এখন লকডাউন রয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলার সরকারি হাসপাতাল জামুর্কিতে গিয়ে দেখা গেছে, একজন রোগীও হাসপাতালে ভর্তি নেই। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালে মেডিসিন, সাজার্রি, গাইনিসহ কোনো ওয়ার্ডে একজন রোগীও ভর্তি নেই। বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা অভিযোগ করেছেন, চিকিত্সা নিতে এলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে রোগীদের বহিঃবিভাগে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক ও নার্সদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কোনো নিরাপত্তাসামগ্রী সরবরাহ না থাকায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে হাসপাতালের কয়েক জন নার্স অভিযোগ করেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনিছুর রহমান আনিছের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুরে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত ৩২টি ক্লিনিক রয়েছে। করোনার কারণে প্রতিটি ক্লিনিকে রোগী এখন শূন্যের কোটায়। স্টাফদের বেতন-ভাতা ও ভবন ভাড়াসহ বিভিন্ন ঋণে তারা জর্জরিত।
