সাভারে বকেয়া বেতন ও কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ২৩:০০

সাভারে কারখানা বন্ধ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছে চারটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। গতকাল রবিবার সকালে ডিইপিজেডের এ ওয়ান পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এছাড়াও আশুলিয়ার গৌরীপুরের মোরাদ অ্যাপারেলস, খেজুরবাগান এলাকার লন্ড্রি ওয়াশিং লিমিটেড, জামগড়া এলাকার এনভয় ফ্যাশন লিমিটেডেও শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

শ্রমিকেরা জানান, এ-ওয়ান পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিল। মালিকপক্ষ দেই দিচ্ছি করে তাদের বিভিন্ন সময় দিলেও গতকাল রবিবার ছিল বেতন পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ। সকালে শ্রমিকেরা বেতনের দাবি তুললে মালিকপক্ষ আগামী ১৬ এপ্রিল বেতন পরিশোধ করা হবে বলে শ্রমিকদের জানায়। এ সময় শ্রমিকেরা কারখানায় কর্মবিরতি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।

এদিকে গৌরীপুর এলাকার মোরাদ অ্যাপারেলস এবং খেজুরবাগান এলাকার লন্ড্রি ওয়াশিং লিমিটেডের শ্রমিকেরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে আশপাশের প্রায় সব কারখানা বন্ধ রয়েছে। কারখানা আসা-যাওয়ার সময় তাদের প্রতিবন্ধকতা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কারখানায় যাওয়ার সময় পরিবহন পাওয়া যায় না। প্রশাসন সব শ্রমিকদের একত্রিত হতে দেয় না। তাই গতকাল সকাল থেকে কারখানা দুটির শ্রমিকেরা আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির দাবিতে কারখানা দুটিতে কর্মবিরতি পালন করছেন।

এছাড়া আশুলিয়ায় এনভয় ফ্যাশন লিমিটেড নামক একটি পোশাক কারখানায় করোনার প্রাদুর্ভাবে শ্রমিকেরা সাধারণ ছুটি চাওয়ায় পুলিশের লাঠিপেটায় নারীসহ তিন শ্রমিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া-১-এর এসপি সানা সামিনুর রহমান জানান,         শ্রমিকদের ওপর কোনো লাঠিপেটা করা হয়নি। বিজিএমইএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে কারখানায় সিপমেন্ট থাকবে তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু এক যৌথ বিবৃতিতে গার্মেন্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি দেশের এই মহাদুর্যোগের সময়ও সরকার ও মালিকেরা আমাদের দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের ‘মানুষ’ হিসেবে গণ্য করছেন না। করোনা মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্বই যেখানে প্রধান কারণীয়, সেখানে আমরা দেখছি এখনো পর্যন্ত কিছু কারখানা বন্ধ হলেও অধিকাংশ কারখানা খোলা রয়েছে। যা শ্রমিকদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলবে। নেতারা অবিলম্বে শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করে এবং অগ্রিম বেতন নিশ্চিত করে দেশের সব কারখানা বন্ধের জোর দাবি জানান।