রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা সন্দেহে ঠাকুরগাঁও জেলার পাঁচ জন ভর্তি হওয়ায় গোটা জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রংপুর মহানগর ঘুরে দেখা গেছে হাতেগোনা মানুষের চলাচল। জানা গেছে, ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসা একই পরিবারের তিন জনসহ পাঁচ জনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর মেডিক্যালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ঠাকুরগাঁও জেলার চিলারাং গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে আড়াই বছরের এক শিশু রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, ঐ পরিবারের কর্তা ঢাকায় রেস্টুেরেন্ট ব্যবসা করেন। গত ১৩ মার্চ তিনি মাদারীপুরে পিকনিকে গিয়েছিলেন। সেখানে জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন। এরপর থেকে জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে তার স্ত্রী ও সন্তানও জ্বর ও প্রচণ্ড বুকের ব্যথাসহ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ঐ অবস্থায় শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ট্রেনে করে ঠাকুরগাঁও আসেন। শনিবার বিকাল থেকে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ঐ রোগীদের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় জানান, আগামীকাল (আজ সোমবার) তাদের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর বোঝা যাবে তারা করোনা আক্রান্ত কি না।
এদিকে মেডিক্যালে করোনা ভাইরাস শনাক্তে পিসিআর মেশিন এলেও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এখন পর্যন্ত কিট এসে পৌঁছেনি। তবে মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া করোনা সংক্রমণের ভয়ে রোগীশূন্য হতে চলেছে হাসপাতাল। হাতেগোনা কয়েকজন রোগী থাকলেও, তারা ঠিকমতো চিকিত্সা না পেয়ে হতাশ বলে জানা গেছে। কলেজের অধ্যক্ষ নুরুন্নবী লাইজু জানান, হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় যে মেশিন আনা হয়েছে এর কার্যক্রম শুরু হতে আরো তিন থেকে চার দিন লাগতে পারে। এর মধ্যে করোনা পরীক্ষার কিটও এসে পড়বে। আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
জানা গেছে, সেনা সদস্যদের টহল ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা গত চার দিনে প্রায় ১০০ জনের মতো কমেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে উদ্বুদ্ধ করছেন তারা। সঙ্গে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে।
