গফরগাঁওয়ে তাকমীন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ২৩:০১

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আলোচিত তাকমীন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আশিকুল হককে (১৯) গ্রেফতার করেছে গফরগাঁও থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী, ওসি অনুকুল সরকার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসান হাবিবের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার বেলা ২টার দিকে গফরগাঁও থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থিত অধ্যক্ষ আখতার হোসেন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একটি কক্ষ তাকে গ্রেফতার করে।

গফরগাঁও সার্কেলের       অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাকমীনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আশিকুল হক। আশিকুলের সহযোগী গ্রেফতারকৃত মাহফুজ শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ নিয়ে গত ছয় দিনের মধ্যে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন জনের মধ্যে দুই জনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হলো।

এলাকাবাসী ও গফরগাঁও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি পাড়াভরট বায়তুন নূর জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন আশিকুল সোমবার দিবাগত রাতে তাকমীনকে ধর্ষণের পর খুন করে মসজিদে ফজরের আজান দেয় এবং ফজরের নামাজের ইমামতি করে। সে বুধবার জোহর পর্যন্ত বায়তুন নূর জামে মসজিদে অবস্থান করে সব ওয়াক্তের আজান দেওয়াসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করে। জোহরের পর সে মসজিদ থেকে পালিয়ে এসে অবস্থান নেয় পৌর শহরের মহিলা কলেজ রোডে অবস্থিত অধ্যক্ষ আখতার হোসেন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের (বর্তমানে বন্ধ) একটি কক্ষে। অন্যদিকে পুলিশ আশিকুলকে গ্রেফতার করতে গত পাঁচ দিন ধরে গফরগাঁওসহ ময়মনসিংহ জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল। আশিকুল নান্দাইল উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।

উপজেলার পাড়াভরট গ্রামের বাসিন্দা কিশোরী মেয়ে তাকমীনকে সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পালিয়ে বিয়ে করার কথা বলে মোবাইল ফোনে তার বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে পাড়াভরট বায়তুন নূর জামে মসজিদের কাছে ডেকে নেয় আশিকুল। এরপর সে ও তার দুই বন্ধু মিলে তাকমীনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। গত মঙ্গলবার বিকালে তাকমীনের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।