জেলার দীঘিনালার প্রত্যন্ত পাহাড়ি পল্লি রথীচন্দ্রপাড়ায় অজ্ঞাত রোগে শনিবার রাতে ধনিতা ত্রিপুরা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং বিভিন্ন বয়সের অন্তত ২০টি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। প্রান্তি ত্রিপুরা নামে এক শিশুকে দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম রথীচন্দ্র কার্বারীপাড়ায় এক সপ্তাহ আগে অজ্ঞাত এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। চরণ বিকাশ ত্রিপুরা নামে একজন জানান, অজ্ঞাত এ রোগের লক্ষণ হচ্ছে শিশুদের গায়ে প্রচণ্ড জ্বর, গায়ে লাল ফোসকার মতো দাগ এবং চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া। এমন লক্ষণ নিয়েই শনিবার রাতে ধনিতা ত্রিপুরা মারা যায়। ধনিতা ত্রিপুরা রথীচন্দ্র কার্বারীপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। চরণ বিকাশ বলেন, ‘আমি আমার মেয়ে প্রান্তি ত্রিপুরাকে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছি। অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত এ গ্রামের আরো বেশ কয়েকটি শিশুর অবস্থার অবনতি ঘটতে দেখেছি, কিন্তু লকডাউনের কারণে যানবাহন না চলায় এবং অর্থের অভাবে সেসব শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছি না।’ তিনি জানান, দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত ২০ শিশুকে চিকিত্সাসেবা প্রদান করছে।
জানা গেছে, রথীচন্দ্র কার্বারীপাড়া ছাড়াও জেরকপাড়া ও হেমকপাড়ার শিশুদের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে রাঙ্গামাটির সাজেকের দুর্গম শিয়ালদহ গ্রামে সম্প্রতি হাম রোগে আট শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এবং দেশ জুড়ে করোনা সংক্রমণের খবরে পুরো গ্রামের মানুষ এখন চরম উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
অজ্ঞাত রোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পর দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ডা. তনয় তালুকদার পরে সাংবাদিকদের জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগেই শিশুগুলো কী রোগে আক্রান্ত এবং কী রোগে শিশুটি মারা গেছে, তা বলা যাবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেছেন, ‘যদি এটা হামের লক্ষণ হয় অথবা শিশুরা হামেই আক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে বিশেষ ব্যবস্থায় এমআর ক্যাম্পেইন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে
