করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে হওয়া কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে। ইতালির পর স্পেনেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। দেশটি এক ভয়ংকর রাত পার করেছে, যে রাতে মারা গেছে ৮৩৮ জন স্প্যানিশ।
আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দেশটিতে দুই লাখ মানুষ মারা যেতে পারে বলে সরকারি এক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন। শিকাগোয় এক বছরেরও কম বয়সের শিশুর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জেলে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউ ইয়র্ককে কোয়ারেন্টাইন করার চিন্তা থেকে পিছু হটেছেন। তিনি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে করোনার কারণে মানসিক চাপে জার্মানির একটি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি ভয়াবহ :
বিশ্বে ৭ লাখ ১০ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং সাড়ে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, স্পেনে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এক রাতেই দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৮৩৮ জনের এবং এক রাতে আক্রান্ত বেড়েছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি। এতে দেশটিতে মোট করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৯৯ জনের মধ্যে। স্পেন সরকার পুরো দেশই লকডাউন করেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, শুধু ইউরোপেই মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার অতিক্রম করেছে। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। একদিনে মারা গেছে ৭৫৬ জন। ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৯৭ হাজার ৬৮৯ জনের মধ্যে। দেশটিতে ৬ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মীও আক্রান্ত এবং ৫১ চিকিত্সকের মৃত্যু হয়েছে। ইতালিতে লকডাউনের মেয়াদ ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল রবিবার মারা গেছে ২০৯ জন।
ফ্রান্সে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬০৬ জনের। সেখানে আক্রান্ত ৪০ হাজার অতিক্রম করেছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসে সাত শতাধিক এবং জার্মানি ও বেলজিয়াম দুই দেশেই মারা গেছে চার শতাধিক মানুষ। সুইজারল্যান্ডে এক দিনে মারা গেছে ৩০০ জন। মোট মৃত্যু আড়াইশ ছাড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞার ওপর আরো কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। জার্মানির হেসে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী থমাস স্কেফার করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন। ৫৪ বছর বয়সি মন্ত্রীর মরদেহ রেলওয়েতে পাওয়া যায়।
মার্কিন সরকারের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফসি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে সতর্ক করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে সামাল দিতে না পারলে এই মহামারীতে দেশে ১ লাখ থেকে ২ লাখ লোক মারা যেতে পারে। আক্রান্ত হতে পারে কয়েক লাখ। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ফ্লুতে দেশে ১২ হাজার থেকে ৬১ হাজার মানুষ প্রতি বছর মারা যাচ্ছে। ১৯১৮-১৯ সালের মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। দেশটিতে মারা গেছে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। আক্রান্ত ১ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে শুধু নিউ ইয়র্কেই আক্রান্ত ৫২ হাজারের বেশি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে নিউ ইয়র্ককে কোয়ারেন্টাইনের চিন্তা থেকে পিছু হটে বলেছেন, এটা জরুরি নয়, বরং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো জানিয়েছেন, চারটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শনিবার নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন জেলে অন্তত ১৩২ জন বন্দি ও ১০৪ জন কর্মীর শরীরে ভাইরাস ধরা পড়ে। কেবল নিউ ইয়র্ক নয়, বরং পুরো দেশেই কারাগারে করোনার উপস্থিতির কথা জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি
ইরান সরকার জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো ১২৩ জন মারা গেছেন। দেশটিতে মোট মৃত্যু ২ হাজার ৬৪০, মোট সংক্রমণ হয়েছে ৩৮ হাজার ৩০৯ জনের মধ্যে। এক চিকিত্সক বলেছেন, বিষাক্ত মিথানল পান করে কয়েকশ ইরানির মৃত্যু হয়েছে এবং আরো কয়েক হাজার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। করোনা ভাইরাসকে হত্যা করে এই মিথ্যা বিশ্বাস থেকে তারা মিথানল গ্রহণ করেছিলেন। সৌদি আরবের সরকার জেদ্দায় প্রবেশ এবং সেখান থেকে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ঐ এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। গত সপ্তাহে রিয়াদ, পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় একই পদক্ষেপ নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা ও ওয়ার্ল্ডোমিটারস
