শেবাচিমে করোনা ওয়ার্ডে দুই জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ২৩:১১

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক জন নারী ও এক জন পুরুষ। এদের মধ্যে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকার এক নারী (৪৫) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তির কিছুক্ষণ পর মারা যান। মারা যাওয়ার পরপরই স্বজনরা তার মৃতদেহ বাসায় নিয়ে যান। গতকাল সকাল ৭টা ২০ মিনিটে করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া অপর রোগী (৪০) পটুয়াখালীর গলাচিপার পাতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পটুয়াখালী হাসপাতাল থেকে তাকে শেবাচিমে প্রেরণ করা হয়। গতকাল তার মৃত্যু হয়। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, হাসপাতালে করোনা শনাক্তকরণ কিট নেই। তবুও রোগীর লক্ষণ দেখে করোনা সন্দেহে তাকে ভর্তি করা হয়। মারা যাওয়া দুজন রোগীরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ও গলাচিপা সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালী শহরের কালিকাপুর এলাকায় সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর করোনা সন্দেহে  রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। তিনি ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার   সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি ভ্যানচালক ছিলেন। চিকিত্সার জন্য তিন সপ্তাহ আগে তিনি পটুয়াখালীতে আসেন জামাইর বাসায়। তার জামাতা জানান, তার শ্বশুর দীর্ঘদিন ধরে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পটুয়াখালীর সিভিল মো. সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঐ বৃদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল কালিকাপুর এলাকার ছয়টি বসতঘর ও বহালগাছিয়া এলাকার আটটি বাড়ির ২৫টি ঘর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম পাতাবুনিয়ায় তিনটি ঘর লকডাউনের কথা নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন।

এদিকে করোনা সন্দেহে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পটুয়াখালীতে মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অনেক রোগী আতঙ্কে হাসপাতালে ত্যাগ করছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে, বহির্বিভাগ টিকিট কাউন্টারের সামনে রং দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গোল চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। বরিশাল বিভাগে গতকাল পর্যন্ত প্রবাস ফেরত ২ হাজার ৮০০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথা জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে ১ হাজার ৩৪৭ জনের।