‘তাঁর কাছে বাংলাদেশের ও বাংলা সাহিত্যের ঋণ আছে’

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫১

গুলশানে প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের বাড়িতে তাঁর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে জড়ো হয়েছিলেন বন্ধু-ভক্ত শুভার্থীরা। ছিলেন অনুজপ্রতিম সাহিত্যিকরা। সৈয়দ হকের ছবির নিচে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন তারা। স্মৃতিকথায় উঠে এলেন সৈয়দ হক। তিনি নেই। কিন্তু সৈয়দ শামসুল হক না থেকেও বেঁচে আছেন ভক্ত, পাঠকদের মনে। গতকাল ছিল সৈয়দ শামসুল হকের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে কবির সহধর্মিণী আয়োজন করেছিলেন স্মরণ অনুষ্ঠানের। আনোয়ারা সৈয়দ হকের পিঠা-পুলির নিমন্ত্রণে যোগ দিয়েছিলেন সৈয়দ হকের স্বজন, সুহূদরা।

‘তুমি আসবে বলে, ভালোবাসবে বলে’ ঝর্ণা রহমানের কণ্ঠে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা এ গান দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মোড়ক উন্মোচন করা হয় সৈয়দ শামসুল হকের তিনটি নতুন বইয়ের। বইগুলো হলো সৈয়দ শামসুল হক অনূদিত ইবসেন-নাটক পীরচানের পালা (চারুলিপি প্রকাশন), নির্বাচিত গল্পের সংকলন গল্পগাথা (চিত্রা প্রকাশনী) এবং সাহিত্য-কলামের সংকলন জলেশ্বরীর দিনপত্রী (অরিত্র প্রকাশনী)। আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, জন্মদিনে আনুষ্ঠানিক আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদলে এই ঘরোয়া আয়োজন করলাম। তারা তাকে ভালোবাসেন, তারা এসেছেন; আমরা কৃতজ্ঞ। আমার বিশ্বাস, তাকে ভালোবাসার মানুষদের হূদয়ও স্পর্শ করেছে এ আয়োজন।

সৈয়দ হকের ছেলে দ্বিতীয় হক বলেন, এখন থেকেই নিয়মিত এই বাড়িতে বাবার জন্মদিনের আয়োজন করা হবে।  অনুষ্ঠানে স্মৃতিকথায় অংশ নেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সমাজকর্মী অ্যারোমা দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ, সাহিত্যিক-সাংবাদিক আনিসুল হক, কবি আসাদ মান্নান, সমকাল-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, কবি সাজ্জাদ শরিফ, সাহিত্যিক মোহিত কামাল, সাহিত্যিক মনি হায়দার, লেখক মাহবুব আজীজ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ হকের সর্বাধিক নাটকের নির্দেশক মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি পিয়াস মজিদ। সৈয়দ শামসুল হকের নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ থেকে অংশবিশেষ পাঠ করেন অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদার। ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ নাটকের ভূমিকাপর্ব পাঠ করেন মাহমুদুল হাকিম তানভীর। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, শিল্পী সাহিত্যিক তাঁর কাজের মাঝে বেঁচে থাকেন। সৈয়দ শামসুল হক বেঁচে থাকবেন তার লেখায়। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের মাঝে তিনি তার লেখনীর মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন।

মফিদুল হক বলেন, সৈয়দ হকের লেখার দিকে এখন যখন নতুন করে তাকাই, মনে হয় তাকে নতুন করে পাওয়ার আছে। তার লেখা নতুন মাত্রা নিয়ে উদ্ভাসিত হয়। আতাউর রহমান বলেন, রবীন্দ্রত্তোর সাহিত্যে হাতে গোনা যে কয়েকজন সাহিত্যিক রয়েছেন সৈয়দ হক তাদের মধ্যে অন্যতম।  তিনি বেঁচে রইবেন আমাদের প্রেরণা হয়ে। আনিসুল হক বলেন, হক ভাইয়ের কাছে বাংলাদেশের ঋণ আছে, বাংলা সাহিত্যের ঋণ আছে। সাজ্জাদ শরিফ বলেন, বাংলাদেশের কথা বলতে হলে বাংলা সাহিত্যের স্পিরিটের কথা বলতে হলে যাদের কথা বলতে হয় সৈয়দ শামসুল হক তাদের মধ্যে অন্যতম। মুস্তাফিজ শফি বলেন, বাঙালি, বাংলা সাহিত্য, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে মুক্তচিন্তা প্রকাশের সাহসী প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবেন সৈয়দ শামসুল হক।