এইচএসসি পরীক্ষা-২০২০

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ১৮:৩৭

বাংলা প্রথমপত্র

মোস্তফা বাবু, প্রভাষক

নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

সুপ্রিয় বন্ধুরা, সারাবিশ্বে দূর্যোগ মুহূর্ত এখন। তাই তোমাদের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। শীঘ্রই সংকট কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশসহ বিশ্ব। তোমাদের আবার নতুন রুটিন  হবে। এসময়টায় তোমাদের এমনিতেই নিজের মতো করে পড়াশোনা করার কথা। বাড়তি সময় যেহেতু পেয়েছো তাই নষ্ট করবে না হেলায় এ সুযোগ। নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে সবসময়। অধিক রাত জেগে পড়াশোনা করবে না। দেশখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ তোমাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেবেন ধারাবাহিকভাবে।

তোমরা ঘরে বসেই পাবে সে পরামর্শ। চোখ রাখো অনুশীলন পাতায়।

প্রশ্নোত্তরে কৌশলী হতে হয়

পরীক্ষা এখন আর ভীতি নয়-উত্সব। একটা সময় ছিল যখন পরীক্ষাকে শিক্ষার্থীরা ভয় পেত। অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে অসুস্থ হয়ে যেত।

পরীক্ষার হল, প্রশ্ন কমন, ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাদি ইত্যাদি। আসল কথা হলো ভীতির পরিবর্তে পরীক্ষাকে আমরা উত্সবে পরিণত করতে পেরেছি।

তোমাদের এ উত্সব আরও বেশি আনন্দমুখর হোক সে কামনার সাথে কিছু পরামর্শও রাখছি তোমাদের জন্য। আমি বাংলা প্রথমপত্র বিষয়ে কিছু অভিজ্ঞতা সহভাগ করতে চাই। বিষয়টি সৃজনশীল হওয়ায় প্রশ্নোত্তরে অধিকতর কৌশলী হওয়াটা জরুরী হয়ে পড়েছে। উল্লিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে মনে রাখা উচিত তোমাদের ;

ক.হাতের লেখা একেবারে হূদয়গ্রাহী না হলেও বোধগম্য হওয়া উচিত। অনেক শিক্ষার্থী বেশি সুন্দর করে লিখতে গিয়ে সময় নষ্ট করে ফেলে। ফলে সব প্রশ্নের উত্তর করতে পারে না। সুতরাং সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে হাতের লেখার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

খ.গদ্য-পদ্যের নাম এবং প্রকরণ যথাযথ লিখতে হবে। যেমন ধরো; “আমার পথ” কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রবন্ধ’ কিন্তু তুমি ‘গল্প’ বলে চালিয়ে দিলে। এতে নম্বর কম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতএব গল্প-প্রবন্ধ-রম্যরচনা এগুলো যথাযথ লিখতে হবে।

গ. রচায়কদের নাম এবং উপাধি যথাযথ লিখতে হবে। প্রাবন্ধিককে কবি বলা যাবে না। আবার গল্পকারকে প্রাবন্ধিক বলা যাবে না। সেই সাথে তাঁদের উপাধি (প্রসঙ্গত) যথাযথ লিখতে হবে। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার পূর্বে সিলেবাসভুক্ত গদ্য-পদ্য, রচনার ধরণ, লেখকের নাম ও উপাধি ভালো করে পুনর্পাঠ করতে হবে।

ঘ.বানানের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে কৌশল হলো যে বানানটি তুমি পারছো না অথবা সন্দিহান প্রশ্নটা ভালো করে দেখো শব্দটি প্রশ্নে লেখা থাকতে পারে।

ঙ.উদ্দীপক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পড়তে হবে তা না হলে প্রশ্নোত্তরে সমস্যা হতে পারে। উদ্দীপক পড়ে আত্মস্থ করতে হবে এর মূল কথা কী। একবার পড়ে বোঝা না গেলে বারবার পড়তে হবে।

চ. যে প্রশ্নের উত্তর লিখবে তার ক,খ,গ,ঘ পর্যায়ক্রমে লিখতে হবে। কোনো অংশ বাদ রেখে অন্যত্র লেখা ঠিক নয়। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং পরীক্ষক বিরক্ত হন।

ছ.অনেক শিক্ষার্থী খাতায় মার্জিন দেয় না ফলে পরীক্ষকের নম্বর লিখতে অসুবিধা হয়। এটি অপত্তিকর ত্রুটি। মার্জিন দেওয়ার একটা স্ট্যান্ডার্ড মাপ আছে তা হলো পার্শ্বে এক থেকে সোয়া ইঞ্চি আর উপরে সোয়া থেকে দেড় ইঞ্চি।

জ.পরীক্ষা শেষ হওয়ার অন্তত ৫-১০ মিনিট আগে লেখা শেষ করা এবং পুরো উত্তরপত্র নিজেই নিরীক্ষা করতে হবে, যে প্রশ্নের নম্বর ঠিকমতো লেখা হয়েছে কিনা। নম্বর ঠিকমতো না লেখার জন্য প্রশ্নোত্তরটি পরীক্ষক বাতিল করতে পারেন। ভালো হোক তোমাদের আসন্ন পরীক্ষা।