একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচার প্রচারণা আরো জমজমাট এবং উত্সবের আমেজ হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর নির্বাচনী এলাকা। গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক, মিছিল মিটিং ও নেতাকর্মীদের দলে যোগদানের মধ্য দিয়ে পুরো নির্বাচনী এলাকা এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আর মাত্র মাঝখানে একদিন বাকী। শেষ মুহূর্তে এসে তিনবারের এমপি ও মহাজোটের তথা আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মোঃ একাব্বর হোসেনের নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের মাঠে নামায় পাল্টে গেছে নির্বাচনের চিত্র। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সু-সংগঠিত হওয়ায় একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়ন মূলত মহাজোটের প্রার্থীর দখলে রয়েছে।
অপরদিকে হারানো আসনটি পুনঃউদ্ধারে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে ঐক্যফন্টের তথা বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি মোঃ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দিন রাত চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। করছেন গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক। টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির নির্বাচনের সাতদিন আগে সরে যাওয়ায় নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। অপর তিন প্রার্থী মজিবুর রহমান, আমিনুর ইসলাম ও শ্রী রুপা রায়ের নাম কাগজে-কলমে থাকলেও ভোটের মাঠে তাদের তেমন সরব নেই। এই আসনে নির্বাচন হচ্ছে মূলত মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী একাব্বর হোসেন এবং আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর মধ্যে। বুধবার ভোটার, প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল মালেকের কার্যালয় সূত্র জানায়, মির্জাপুরে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মোঃ একাব্বর হোসেন (নৌকা), বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির (লাঙ্গল), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোঃ মুজিবুর রহমান (দেয়াল ঘড়ি), ইসলামী শাসন আন্দোলনের প্রার্থী মোঃ শাহিনুর ইসলাম (হাতপাখা) এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী শ্রীমতি রুপা রায় চৌধুরী (বাঘ)।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল মালেক এবং অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর নির্বাচনী এলাকা মূলত শান্তিপ্রিয়। এখানে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপ্রিয় ও নিরপেক্ষভাবে গ্রহণের লক্ষ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি হাতে নেওয়া হয়েছে।
