জনমানবশূন্য কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ২১:২১

বেকার হচ্ছেন পর্যটনমুখী স্বল্প আয়ের মানুষ

মোহসীন পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

চিরচেনা সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাতে নেই কোনো আমেজ, নেই কোনো উত্সব, নেই জমজমাট। এমন জনমানবহীন সমুদ্রসৈকত গত বিশ বছরে দেখেননি স্থানীয়রা। এখন যেন স্থানীয়দের কাছেই অচেনা এক কুয়াকাটা। সন্ধ্যার পর সমুদ্রসৈকতে চলত নানা উত্সব। আজ আর নেই উচ্ছ্বাস।

নোভেল করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে পর্যটকদের ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে গেছে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতের বেলাভূমিতে দুই-চার জন স্থানীয় মানুষ ছাড়া কোনো পর্যটকের পদচারণা নেই, নেই কোনো মুখরতা। পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন হোটেল-মোটেল, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ কুয়াকাটায় অবস্থানরত ট্যুর অপারেটররা। বেকার হয়ে পড়েছেন পর্যটনমুখী স্বল্প আয়ের মানুষগুলো।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কুয়াকাটায় সৈকতে পর্যটকদের চলাচল নিষিদ্ধ করেছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ। দু-একটি চায়ের দোকান খোলা থাকলেও ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশের ন্যায় কুয়াকাটাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে কুয়াকাটা সমুদ্র উপকূলের জেলেরাও পড়েছে বিপাকে। সমুদ্রে মাছধরা নিষিদ্ধ না থাকলেও ক্রেতা-সংকটের কারণে মাছের দাম কমে গেছে। বাজারজাত করতে পারছেন না আড়তদাররা। যার কারণে কোনো সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই অধিকাংশ জেলেরা সমুদ্রে মাছ শিকার বন্ধ রেখেছে। বেকার হয়ে পড়েছে এর সঙ্গে জড়িত শত শত জেলে শ্রমিক। আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক জিয়াউর রহমান শেখ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পর হোটেলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেলের কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ট্যুরিস্ট গাইড, পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটররাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরই কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।