২৯০টি এলসি বাতিল
এনামুল হক, খুলনা অফিস
বিশ্ব জুড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ‘সাদা সোনা’ বলে খ্যাত চিংড়ির ভবিষ্যত্। আগামী অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়াতো দূরের কথা, গত অর্থবছরে যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছিল তাই অর্জন করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারকরা চরম আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) সূত্র জানায়, ইউরোপসহ বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার কারণে গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় বর্তমানে বিভিন্ন কারখানাগুলোতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার চিংড়ি অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। বিএফএফইএর সাবেক পরিচালক এস হুমায়ুন কবীর জানান, গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের চিংড়িশিল্প খুব ধসের মধ্যে ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির ৮৫ শতাংশই রপ্তানি হয় ইউরোপে। কিন্তু ইউরোপের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত ২৯০টি অর্ডার (এলসি) বাতিল হয়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। গত ছয় দিনে এই অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের চিংড়ি সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে রপ্তানিকারকদের আগামী দুই বছর পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের ৩০ শতাংশ জিরো পারসেন্ট সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, কারখানাগুলোর ব্যবহূত বিদ্যুত্ বিলের ৫০ শতাংশ মওকুফ, রপ্তানিতে আর্থিক প্রণোদনা ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করাসহ আপত্কালীন এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা দরকার।
বাংলাদেশ সি ফুড এক্সপোর্ট বায়ার এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বায়াররা ভীষণভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আমাদের এখান থেকে কোনো শিপমেন্ট হচ্ছে না। গত এক সপ্তাহ ধরে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে রপ্তানিকারকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আমরাও সে রকম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই অবস্থায় আমরা আমাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছি।
