করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে কর্মরত ওয়েম্যানরা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ২১:৩৩

সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথে কর্মরত ওয়েম্যানরা করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। যেখানে সরকার করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে জনগণকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করছে। সারা দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। সেখান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনে কাজে নিয়োজিত ওয়েম্যানরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ রোধে সরকার ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা দিয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন ও রেলওয়ে কারখানাসহ রেলের বিভিন্ন দপ্তর। কিন্তু মালবাহী ও তেলবাহী ট্রেন বন্ধ না থাকায় মাঠে কাজ করছে ওয়েম্যানরা।

রেলওয়ে সূত্র মতে, সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলপথের দৈর্ঘ্য ৫২ কিলোমিটার। এ রেলপথের দেখভালের জন্য সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে ৯৩ জনের সমন্বয়ের একটি জনবল। যার মধ্যে ৯ নারীসহ ৭৩ জন ওয়েম্যান এবং বাকি ২০ জনের মধ্যে রয়েছে কী ম্যান, গ্যাং ম্যান ও ম্যাট।

ওয়েম্যান শরিফুল ইসলাম জানান, রেলের অন্য কর্মচারীরা যেখানে ঘরে বসে করোনা ভাইরাস থেকে সাবধানতা অবলম্বন করছেন, সেখানে ওয়েম্যানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তিনি সব ওয়েম্যান ও তাদের পরিবার পরিজনের জীবনের নিরাপত্তার জন্য ছুটির দাবি জানান।

ম্যাট মমিনুল বসুনিয়া জানান, কাজ বন্ধ থাকলে রেলের ফিটিংস মালামালগুলো চুরির সম্ভাবনা থাকে। আমরা রেলের বৃহত্ স্বার্থে কাজ করছি। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় মালামাল প্রদানের দাবি জানান তিনি ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগ (ওপেন লাইন) সৈয়দপুর শাখার সভাপতি মো. হায়দার আলী জানান, দেশের এমন পরিস্থিতিতে ওয়েম্যানকে দিয়ে কাজ করানো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অমানবিক দিক এটি। তাদেরকে ছুটি দিয়ে বাসায় পরিজনদের সঙ্গে থাকার সুযোগ করা হোক।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুর ডিভিশনের পারমানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর (পিডব্লিউআই) সুলতান মৃধা জানান, যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ। তবে মালবাহী ও তেলবাহী ট্রেন চলাচল করছে। সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের স্টাফরা কাজ করছে। যেহেতু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে সেহেতু স্টাফরা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে কাজ করছে। সাধারণ পোশাকে ওয়েম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে রেলপথে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।