নীলফামারীতে ইপিজেড লকডাউনের দাবি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ২১:৩৯

বেকার হওয়ার আশঙ্কা শ্রমিকদের

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীতে উত্তরা ইপিজেড লকডাউনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। জরুরি ভিত্তিত্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইপিজেডের অভ্যন্তরে থাকা কলকারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে পোস্ট দিয়েছেন শত শত জন।

তারা লিখেছেন, ‘গোটা নীলফামারী জেলা ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন। মানুষজন গৃহবন্দী। কিন্তু খোলা রাখা হয়েছে জেলা সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নে অবস্থিত বেপজার উত্তরা ইপিজেড। সেখানে কাজ করছেন এ জেলার প্রায় ৩৫ হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক। তারা বাধ্য হয়ে চাকরি হারানোর ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।’ উত্তরা ইপিজেডে কয়েকটা ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে ভেলাটেক্স, দেশবন্ধু, সেকশন সেভেন, উত্তরা সোয়েটার্স অন্যতম। এখন যে সব ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে তার মধ্যে ভেঞ্চুরা লেদারওয়ার, মাজেন বিডি, সনিক বিডি, এভারগ্রীন এসব কোম্পানি রয়েছে।

ফেসবুকে লেখা হয়েছে, এভাবে লকডাউন ভেঙে যদি প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ কাজে যাওয়া-আসা করতে থাকে আর যদি কেউ সংক্রমিত হয় করোনা ভাইরাসে বা এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে কে দায়ী থাকবে! নীলফামারীর ২০ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে পড়ছে। নারী নেত্রী আরিফা সুলতানা লাভলী লিখেছেন, উত্তরা ইপিজেড লকডাউন করা জরুরি। তিনি বলেছেন, উত্তরা ইপিজেটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩১ ফ্যাক্টরির মধ্যে ২২ ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি ইপিজেট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা. রণজিত্ কুমার বর্মন বলেন, উত্তরা ইপিজেড নিয়ে একটু বেশিই চিন্তিত কারণ ওখানে যারা বিদেশ থেকে আসেন তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলেন না। আমার সঙ্গে যোগাযোগও করে না। বিশেষত চীনের নাগরিকদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সময়ে আমি এবং আমার স্টাফদের মাধ্যমে তাদের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারা আমার সঙ্গে কো-অপারেট করেননি। এখন তাদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অবগত করেছি। নির্দেশনা মাফিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।