ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চিকিত্সা করাতে গিয়ে আটকাপড়ে বিপদে আছেন সহস াধিক বাংলাদেশি। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, চিকিত্সা শেষে কিংবা চলাকালে এই লকডাউনে তারা বন্দি হয়ে পড়েছেন। খাদ্য, পানি, ওষুধ শেষ হয়ে আসলেও কেনার উপায় নেই। আর বড়ো কথা তাদের টাকাও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় দিশেহারা হয়ে তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুুব একটা আশান্বিত হতে পারছেন না বলে জানান। হাইকমিশন থেকে জানা যায়, তাদের নানামুখী চাহিদা মেটাতে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ৯১৮৫৯৫৫৫২৪৯৪ হটলাইন চালু করা হয়েছে।
কলকাতায় পরিবারের তিন জন নিয়ে আটকেপড়া এস কে বাপ্পি জানান, তার শ্বশুর ক্যানসারের রোগী। চিকিত্সা শেষ, লকডাউনের কারণে ফিরতে পারছে না দেশে। বাপ্পী বলেন, খুব বিপদের মধ্যে আছি পয়সা যা এনেছিলাম সব শেষের দিকে। আমাদের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানায়। ২৫০ জনের তথ্য তারা হাইকমিশনে জমা দিয়েছেন।
দিদারুল ইসলাম শাওন ৩ মার্চ মা আর ছোটো বোনকে নিয়ে ছোটো বোনের চিকিত্সার জন্য চেন্নাই যান। সেখানে কয়েকশ বাংলাদেশি আছেন। ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার জালাল উদ্দিনও মা এবং ছোটো বোনকে চিকিত্সার জন্য ভেলরে নিয়ে যান। বোনের অপারেশন শেষ হয় ২৫ মার্চ। এখন আটকা থেকে বলেন, অনেক সমস্যায় পড়ে আছি। দেশে যাওয়ার উপায় কী, যেতে না পারলে খাব কি, টাকা নেই হোটেলের ভাড়া দিব কোথা থেকে। বাজার করব কী দিয়ে, ওষুধ কিনব কীভাবে—এমন অনেক প্রশ্ন তার। তিনি জানান, আমরা এখানে অন্তত ১২০০ লোক আটকা পড়ে আছি। আমরা হাইকমিশনে যোগাযোগ করেছি কিন্তু আশান্বিত হতে পারছি না।
জানা যায়, আটকে পড়া বাংলাদেশিরা হাইকমিশনের কথা অনুযায়ী তাদের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, বর্তমান অবস্থান এবং যোগাযোগের নম্বর পাঠিয়েছেন। তারা এখন সকলকে খুব দ্রুত বিশেষ বিমানের মাধ্যমে দেশে ফেরানোর কথা বলেন।
বাংলাদেশিরা জানান, ভারত সরকার জনগণকে খাদ্যসামগ্রী দিলেও তাদের ভাগ্যে জুটছে না। তাই দেশে ফিরতে দেরি হলে, না খেয়ে থাকতে হবে। অবস্থা বিবেচনা করে তাদের যেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়। তারা ইত্তেফাকের মাধ্যমে এই মুহূর্তে সরকারের একান্ত সহযোগিতায় দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেন।
ভারত হাইকমিশনের তথ্য মতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ১৫ লাখ ভিসা দেওয়া হয়। ২০১৫ সাল হতে বাংলাদেশ সর্বাধিক ভিসা প্রাপ্ত হয়ে আসছে। গড়ে প্রতি মাসে ১ লাখ ২৫ হাজার লোক ভারতীয় ভিসা পায়। কেউ কেউ পড়াশোনা ও বেড়াতে গেলেও বেশির ভাগই চিকিত্সার জন্য যায়। এদের ফিরিয়ে আনতে দূতাবাস কাজ করছে বলে ফেসবুক পেজে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। বাংলাদেশ দূতাবাস দিল্লির প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেন টেলিফোনে ইত্তেফাককে বলেন, এখন পরিস্থিতি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। হটলাইনে যোগাযোগ করছে তারা। তাদের নানারকম চাহিদাকে সমন্বিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দূতাবাস দেশে ও ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবে। সেই কাজ চলছে।
