পঞ্চগড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ২১:৫১

সড়ক-মহাসড়কে জটলা

সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

দোকানপাট, হাটবাজার সব বন্ধ। যানবাহন চলাচল কমে গেছে। লোক চলাচল নেই বললেও চলে। তবে কিছু কিছু স্থানে জটলা দেখা যাচ্ছে। আর সেই জটলা দিনমজুর অসহায় দরিদ্র মানুষের। কাজ করে খেতে হয় এমন মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। খাদ্যের সন্ধানে এসব মানুষই ভিড় করছেন সড়ক-মহাসড়কসহ হাটবাজারে। খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা কাজ করতে না পেরে খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করছেন। এদের জন্য জরুরীভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো না গেলে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেনাবাহিনী টহল শুরু করার পর মানুষজন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চললেও সোমবার থেকে হাটবাজার ও সড়ক-মহাসড়কে মানুষজনের জটলা বেড়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের গাড়ি চলাচলে লোকজন সরে গেলেও আবারও ভিড় করছেন সেখানে। সাধারণ মানুষ ত্রাণ সহায়তার জন্য পথে পথে ঘুরছেন। কে কখন সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে আসবেন এই অপেক্ষায় কড়া রোদে অপেক্ষা করছেন খাদ্যসামগ্রীর জন্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে সূর্যের কড়া তাপ উপেক্ষা করে কয়েকশ মানুষ পঞ্চগড় জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে পঞ্চগড় জেলা রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে কয়েকটি কার্টুন নিয়ে একটি ভ্যান আসে। ভ্যান দেখা মাত্রই দৌড়ে আসেন দুস্থরা। পরে দেখা যায় রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে একটি করে সাবান বিতরণ করা হচ্ছে। ৩০ টাকা মূল্যের একটি করে ব্যাকট্রল সাবানের জন্য কয়েকশ মানুষের কাড়াকাড়ি। মুহূর্তেই সাবানও শেষ হয়ে যায়। কিন্তু চালসহ ত্রাণ সহায়তার জন্য আক্ষেপ থেকেই যায় এই সকল দুস্থ মানুষের। মানুষগুলোর চোখে ত্রাণের আকুতি। এদিকে নিম্ন আয়ের নিম্ন মধ্যবিত্তরাও বিপাকে পড়েছেন। এই সময়ে তাদের ঘরে ধান না থাকায় তারাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা না পারছেন সাহায্য চাইতে, না পারছেন এই দুর্ভোগের কষ্ট সইতে।

জেলা শহরের শ্রমজীবী নারী সুফিয়া বানু জানান, আমরা কাজ করে দৈনিক যে মজুরি পাই তাই দিয়ে আমাদের সংসার চলে। কয়েকদিন থেকে কাজ করতে পারছি না। ঘরেও খাবার নেই। তাই বাজারে বের হয়েছি যদি কেউ চাল-ডাল দেয়।

জেলা শহরের রামেরডাঙ্গা এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম জানান, রিকশা নিয়ে বের হলেই পুলিশ পাম্প ছেড়ে দিচ্ছে। শহরে সেরকম মানুষও নেই। যাত্রী নেই, আয় নেই, তাই খুব কষ্টে পড়ে গেছি। সরকার বাইরে বের হতে নিষেধ করছেন অথচ আমাদের বাড়িতে কি কষ্ট তা কেউ খোঁজও নিচ্ছে না। আমরা কীভাবে চলব। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের সাতখামার গ্রামের দরিদ্র হাফেজা বেগম জানান, মানুষের বাসায় কাজ করে যা পাই তা দিয়ে কোনরকমে সংসার চলে। যে বাসায় কাজ করতাম, তারা কয়েকদিন যেতে মানা করেছে। এখন তো কাজ করতে পারছি না, ঘরে খাবারও নাই।

পঞ্চগড় নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন সরকার জানান, পঞ্চগড়ে অঘোষিত লকডাউন চলছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা বাইরে বের হতে পারছেন না। দৈনিক উপার্জন নির্ভর মানুষের ঘরে খাবার নেই। দিন দিন খেটে খাওয়া মানুষের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সরকারকে দ্রুত এই সকল মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিতে হবে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩ হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। ৫ লাখ টাকা ও ৩০ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরো ত্রাণ সহায়তা আসছে। এলেই তা দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আমরা প্রকৃত দুস্থদের তালিকা তৈরি করছি। উল্লেখ্য, পঞ্চগড় জেলায় ১২ লাখেরও বেশি মানুষ রয়েছে। এদের মধ্যে ন্যূনতম ৩ লাখের বেশি মানুষ দরিদ্র ও অসহায়। এই করোনা পরিস্থিতিতে তারা কঠিন সংকটে পড়েছেন।