কুমিল্লায় এক নারী শ্রমিককে যৌন হয়রানিতে বাধা দেওয়ায় আবদুল মতিন (৬০) নামে এক ঠিকাদারকে বখাটেরা ছুরিকাঘাতে খুন করেছে। নিহত আবদুল মতিন কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ মধ্যপাড়া এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি জেলার দেবীদ্বার সরকারি শিশু পরিবারের ঠিকাদার ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দুই দফা সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকার ক্ষুব্ধ লোকজন গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কথিত ঘাতক আল-আমিনের বাড়িটি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, কুমিল্লা ইপিজেডের এক কোম্পানির একজন নারী শ্রমিক গত রবিবার বিকালে নগরীর সংরাইশ এলাকায় গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় একই এলাকার মঞ্জিল মিয়ার ছেলে বখাটে বিপ্লব (২৫) ঐ নারী শ্রমিকের পথ রোধ করে তাকে যৌন হয়রানি করে। এ ঘটনা দেখে প্রতিবাদ জানান জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে বিপ্লবের সহযোগী সংরাইশ এলাকার ইদ্রিস মিয়ার (ইদু) ছেলে আল-আমিন একদল বখাটেসহ ঘটনাস্থলে এসে বিপ্লবের পক্ষ নিয়ে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় খবর পেয়ে উভয়পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়। পরে সন্ধ্যায় বিপ্লবের সহযোগী আল-আমিন তার সহযোগীদের নিয়ে জসিমের বাড়ির সামনে যায়। এ সময় তারা জসিমের চাচা ঠিকাদার আবদুল মতিনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। তাকে বাঁচাতে এসে আহত হন মতিনের ছেলে পারভেজ, ভাতিজা জসিম উদ্দিন, একই বাড়ির রাব্বী, শিরীনসহ চার জন। নিহতের ছেলে পারভেজ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আবদুল মতিনকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সোমবার সকাল ৯টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক সাংবাদিকদের জানান, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রুবেল হোসেন হূদয় (২২) নামে এক জনকে আটক করা হয়েছে।
