বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় জ্বর-সর্দিতে মারা যাওয়া সেই ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। গতকাল সিভিল সার্জনকে এ তথ্য জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
এদিকে সেই মৃত ব্যক্তিকে দাফনে (সত্কার) বাধা দেওয়ার কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সিভিল সার্জন গউসুল আজিম চৌধুরী বলেন, আইইডিসিআর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, গত শনিবার মারা যাওয়া ব্যক্তিটির শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব পরীক্ষায় মেলেনি। মৃত ব্যক্তি যেহেতু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না, তাই পরিবারের সদস্যদের আর কোয়ারেন্টাইনে রাখা কিংবা প্রতিবেশীদের লকডাউনে রাখার দরকার নেই।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার নিজের কর্মস্থল গাজীপুর থেকে স্ত্রীর কর্মস্থল শিবগঞ্জে আসেন। এরপর জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে পড়েন। শুক্রবার রাতে অবস্থার অবনতি ঘটে। অসুস্থ স্বামীকে চিকিত্সাকেন্দ্রে নিতে অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে নানা স্থানে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন স্ত্রী। করণীয় জানতে আইইডিসিআরের হটলাইনেও কল করেন তিনি। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি বলে তার অভিযোগ। পাড়া-প্রতিবেশীও করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে এগিয়ে আসেননি। শেষ পর্যন্ত বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের হটলাইনে কল করলে পরদিন সকাল ১০টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে একজন চিকিত্সক এসে ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন।
করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় দাফনেও বাধা দেন এলাকাবাসী। বাধার মুখে নিজ বাড়ি কাহালু থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে খাস সম্পত্তিভুক্ত পীরের মাজারের পাশে ওই ব্যক্তিকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সেখানে কবর খুঁড়তেও বাধা দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে কবর খুঁড়তে স্থানীয় কেউ রাজি হননি। পরে পুলিশের সদস্যরাই কবর খোঁড়েন ও দাফনের ব্যবস্থা করেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবির গতকাল বলেন, আইইডিসিআরের দেওয়া প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির স্ত্রী-সন্তানের আর কোয়ারেন্টাইনের দরকার নেই। পাশাপাশি আশপাশের বাড়িগুলোর লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
