করোনা ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি দেশীয় অর্থনীতিতেও একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য আপাতত বন্ধ। আর এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের অবস্থাও শোচনীয়। এই অবস্থায় ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট (১০ শতাংশের নিচে) নিয়ে আসা কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামীকাল পহেলা এপ্রিল থেকে এই সুদহার বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। ব্যাংকগুলো বলছে, তাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়ন পেছাতে পারে এমন মনে করছে অনেক ব্যাংক। এবং সে অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত এসব ব্যাংক ৮ থেকে ৯ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে নতুন ও আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোই এমনটা করছে। আগামীকাল থেকে সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নের জন্য বেশির ভাগ ব্যাংকই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকও বলছে, এপ্রিল থেকেই এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়ন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, পহেলা এপ্রিল থেকেই সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর হবে। এটা কার্যকর না করার কোনো সুযোগ নেই। করোনা ভাইরাসের কারণে এখন এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে। আগে যারা সমালোচনা করতেন, এখন তারা ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে এর পক্ষে কথা বলবেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় এরই মধ্যে নগদ জমা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) সাড়ে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। রেপোর সুদহার ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে নামানো হয়েছে।
বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোও তাদের শাখায় এ প্রজ্ঞাপন পাঠিয়েছে। ফলে এখন আর সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়ন না করার কিছু নেই। করোনার কারণে দেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ। রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকেরাও খারাপ অবস্থায় আছে। এমন পরিস্থিতির কারণে এখনই সময় সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে বিশ্বের অনেক ব্যাংক সুদহার শূন্যে নামিয়ে আনবে। সুদহার না কমালে যারা ঋণ দিয়েছে তারা কীভাবে ব্যবসা করবে? প্রয়োজনে তিন মাসের জন্য আমাদের দেশেও সেটা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কথা উঠতে পারে, ৬ শতাংশে আমানত পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য একদিক দেখতে হবে। সব ব্যাংক যদি ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে শুরু করে, আমানত ৬ শতাংশের নিচে নামবেই।
আগামী পহেলা এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ক্ষুদ্র, মাঝারিসহ সব ধরনের শিল্প, গাড়ি, বাড়ি, আবাসনসহ কোনো ঋণে আর সিঙ্গেল ডিজিটের বেশি সুদ নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। আগে দেওয়া ঋণেও সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে হবে। তবে আমানতের ক্ষেত্রে নিজেদের মতো করে সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে। যদিও এর আগে ব্যাংকগুলো নিজেরা বসে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেয়াদি আমানতে আর ৬ শতাংশের বেশি সুদ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ সিদ্ধান্ত অনেক ব্যাংক মানছে না।
এদিকে সরল সুদ চালুর বিষয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও সেটি আর কার্যকর হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মে ২০০১৯ সাল থেকেই সরল সুদ কার্যকর করার কথা। সে বিষয়টি এখন আর আলোচ্যই থাকছে না।
