শোবিজে এখন দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার আতঙ্ক!

টেকনিশিয়ান ও মিউজিশিয়ানরাও পরিবার নিয়ে গভীর শঙ্কায়

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২০:৩৪

টেকনিশিয়ানদের কথা ভাবতে হবে এখনই। এরই ভেতরে নিশ্চয়ই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর পাশাপাশি আমরা যারা একেবারেই এই নাটক নির্মাণ পেশার ওপরেই নির্ভরশীল তাদের জন্য সামনের দিনগুলোতে এক ভয়াহতা অপেক্ষা করছে। কারণ দেখুন এমনিতেই আমাদের বিভিন্ন চ্যানেলে দীর্ঘমেয়াদে পারিশ্রমিক বকেয়া থাকে। সেখানে নিয়মিত কাজগুলো বন্ধ হয়ে গেলে আরেক সঙ্কটে পড়বো। কারণ প্রত্যেক নির্মাতার দিকে তার গোটা প্রডাকশনের সকল কর্মীরা চেয়ে থাকে।  —নির্মাতা সকাল আহমেদ

 

হোম কোয়ারেন্টাইনে সবাই কী ভালো আছেন? ভালো আছেন কী শোবিজের সকলেই? এই প্রশ্নটাই আজ অনেকের। করোনা আতঙ্কে থমকে যাওয়া দেশ শহরেরই অংশ এই শোবিজ ইন্ডাস্ট্রি। এরই ভেতরে শিল্পীরা যে যার মতো করে সহযোগিতা করছেন অন্যদের। মানবতার অনন্য উদাহরণ তৈরি করছেন যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী। অবশ্য এই সহযোগিতা করা নিয়েও এক ধরনের কুটতর্ক অবশ্য তৈরি হচ্ছে। অনেকেই এভাবে বলছেন যে, দান করার ছবিটা কেউ ফেসবুকে দেয়া হচ্ছে কেন? সমালোচনা করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি এখন মানুষের পাশে থাকা। নির্মাতা মাসুদ সেজান তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘আমি আমার মতো কাজ করছি। মানুষের পাশে থাকছি। কিন্তু ফেসবুকে দিচ্ছি না।’ অন্যদিকে একটি লাইভে চিত্রনায়ক ওমর সানী বলেন, ‘শিল্পী সমিতির চাল-ডাল আমার বাসায় কেন দিতে হবে। আল্লাহর রহমতে আমরা তো ভালো আছি। কিন্তু যারা হতদরিদ্র তাদের কাছে যেন পৌঁছে।’ মুখ ঢেকে পরিচয় না দিয়েও চিত্রতারকা অধরা ১০০ জনের পরিবারে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। বসে নেই সংগীত তারকারাও। তারাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করছেন। কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর বরাবরই যেকোনো সঙ্কটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাই ফেসবুকে প্রচারণা নয়, নিজের মতো করেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা যেমন আছে তেমনি এই কর্মহীন শহরে বেঁচে থাকার ভয়াবহ সঙ্কটের কথা বলেছেন, যা দারিদ্রের। নির্মাতা সকাল আহমেদ বলেন, ‘টেকনিশিয়ানদের কথা ভাবতে হবে এখনই। এরই ভেতরে নিশ্চয়ই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর পাশাপাশি আমরা যারা একেবারেই এই নাটক নির্মাণ পেশার ওপরেই নির্ভরশীল তাদের জন্য সামনের দিনগুলোতে এক ভয়াহতা অপেক্ষা করছে। কারণ দেখুন এমনিতেই আমাদের বিভিন্ন চ্যানেলে দীর্ঘমেয়াদে পারিশ্রমিক বকেয়া থাকে। সেখানে নিয়মিত কাজগুলো বন্ধ হয়ে গেলে আরেক সঙ্কটে পড়বো। কারণ প্রত্যেক নির্মাতার দিকে তার গোটা প্রডাকশনের সকল কর্মীরা চেয়ে থাকে। উপরওয়ালা এই গভীর সঙ্কট থেকে রেহাই দিক এটাই সবার কাছে প্রত্যাশা।’ এদিকে নির্মাতা অনন্য মামুনের একটি চলচ্চিত্রের পুরো বাজেট খরচ করা হচ্ছে এ সময়ের অন্যতম জরুরি পিপিই তৈরির জন্য। ছবিটির প্রধান ভূমি কায় ছিলেন শাকিব খান। এক্ষেত্রেও শাকিব খান ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো সহযোগিতা করেননি। হয়তো এই দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের সামনের দিনগুলোর কথা ভেবে শাকিব খান নিজেও এগিয়ে আসবেন বলে অনেকের ধারণা। এদিকে অপু বিশ্বাস দরিদ্রদের সাহায্য দেওয়ার ছবি ও ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও নিয়েও কেউ কেউ সমালোচনা করছেন। এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি আমার ব্যক্তিগত দায়বোধ থেকে কাজটি করেছি। সুতরাং এখানে কে কী বললো সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আর আমরা যে সমালোচনা প্রিয় এটা তো নতুন কিছু নয়। তবে আমি বলবো কে প্রচার করলো বা কে করলো না সেটা না গুনে আসুন আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াই।’ কণ্ঠশিল্পী সালমাও নিজ দায়িত্বে সহযোগিতা করছেন। উদ্যোগী হয়েছেন দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানোর। তাই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা শোবিজের সকলেই ভালো নেই। সর্বশেষ বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী সংস্থা থেকে এর সভাপতি ড. ইনামূল হক ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম বাশার একটি লিখিত আবেদনপত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিতে নিজেদের সঙ্কটের কথা বলেছেন। আলোর সামনে দাঁড়ানো তারকা হয়তো কেউ কেউ খানিক ভালো আছেন। কিন্তু সিনেমা নাটকের  টেকনিশিয়ান, মিউজিশিয়ানদের পরিবারের কথা ভেবে একটি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন এখনই। এ প্রসঙ্গে গুণী চিত্রনায়িকা অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘পর্দার পেছনের মানুষ তো রয়েছেই। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এই সঙ্কট চললে আমাদের মতো যারা পেশাদার শিল্পী সেটা সিনেমা-নাটক বা গানেরই হোক না কেন তাদের তো প্রতিমাসের একটা পারিবারিক ব্যয়ভার রয়েছে। সে কথাও ভাবাটা এখনই জরুরি। আমরা হয়তো ক্ষণকালের জন্য পাশে থাকছি একে অপরের। কিন্তু এই কর্মহীন অবস্থার দীর্ঘমেয়াদ চললে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন।