একজন আদর্শবান রাজনৈতিক কর্মী

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৩১

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদার একজন ক্ষণজন্মা কর্মযোগী মানুষের নাম। তিনি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য। এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে একজন পথিকৃত্, নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও প্রাতঃস্মরণীয় জননেতা। অতি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত জনদরদী, স্বল্পভাষী, বিনয়ী, রুচিশীল, দূরদর্শী এই নেতার গণমুখী টেকসই উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড ইতিহাসের পাতায় ও এলাকাবাসীর মনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরদিন।

গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদারের জন্ম ১৯৫০ সালের ১৮ জুন; সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বাকাই গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা মরহুম ইস্রাফিল হোসেন তালুকদার, মাতা মরহুমা তুষ্টু বেগম। গ্রামের পাঠশালা বাকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। বগুড়া জেলার ছোনকা হাইস্কুল থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৭৮-এ। ১৯৭৪ সালে মনোয়ারা সুলতানার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। মনোয়ারা সুলতানা চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার হরিপুর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম সাইদুর রহমানের কন্যা।

ইসহাক হোসেন তালুকদার বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের তদানিন্তন নেত্রী মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে ১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে রওশনুল হক মতি মিয়ার পক্ষে একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই কর্মতত্পরতায় তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নজরে আসেন। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধপরবর্তীসময়ে আওয়ামীলীগের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত থেকে কাজ করে যান। ১৯৮০ সালে ধামাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নৃশংসভাবে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসক দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতাও হরণ করে। এ অবস্থা থেকে মানুষের মুক্তির জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে রায়গঞ্জের ভূইয়াগাঁতীতে তিনি ‘অন্বেষা সাংস্কৃৃতিক গোষ্ঠী’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি এর সভাপতি, এছাড়া এর চার জন সদস্য হলেন, কে.এম আজিজুল হক, রাজকুমার দাস, আলী আশরাফ মিয়া ও অসীম কুমার চৌধুরী। অন্বেষা সাংস্কৃৃতিক গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার অল্পদিনের মধ্যেই উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক সুধীজন এই সংগঠনের সঙ্গে যোগ দেন। সংগঠনটি অরাজনৈতিক বলা হলেও সাংস্কৃতিক ছদ্মাবরণে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসার লক্ষ্যে ‘অণ্বেষা’ স্থানীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখছিল। ওই সাহিত্য সাময়িকীতে কবি মহাদেব সাহা, সমুদ্রগুপ্ত, বিজ্ঞানী ড. আব্দুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনসহ অনেক প্রতিথযশা লেখক লেখা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

ইসহাক হোসেন তালুকদার ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার কর্মযোগী মানুষ ও একজন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠক। তিনি নিজ শ্রম, মেধা ও অর্থায়নের মাধ্যমে সুহূদদের সাথে নিয়ে অগণিত জনহিতকর কাজ করেছেন। তাঁর সুহূদদের মধ্যে ছিলেন রাজ কুমার দাশ, কেএম আজিজুল হক, আশরাফ আলী, অসীম চৌধুরী, শামসুল হক মাস্টার, হিরা তালুকদার প্রমুখ। স্থানীয় শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রায়গঞ্জের ঘুরকা ইউনিয়নের ভূইয়াগাঁতী হাইস্কুল, ধামাইনগর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার শালিয়াগাড়ি হাইস্কুল ও তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় বলদি দাখিল মাদ্রাসার নাম উল্লেখযোগ্য। তিনি দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের বই খাতা পোশাক ও অর্থ সাহায্য দিতেন। অগ্নিকাণ্ড কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহহীন মানুষের পরিধেয় বস্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা ও খাদ্য ওষুধ সরবরাহ করাসহ রোগাক্রান্ত অসহায় দরিদ্রের চিকিত্সা সহায়তাও দান করেছেন। একাজগুলো শুরু করেন ছাত্রজীবন থেকেই।

তিনি চলনবিল রক্ষা আন্দোলন, বড়াল রক্ষা আন্দোলনসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে চলনবিল এলাকায় রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও চাটমোহর উপজেলার মোট ৮৮৬টি খাস দিঘি নিয়ে ‘জয়সাগর মত্স্য খামার’ প্রতিষ্ঠা করেন। যার উদ্দেশ্য ছিল চলনবিল এলাকার প্রায় ১২ হাজার দরিদ্র মত্স্যজীবী পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা। প্রকল্পটি সরকারি কতিপয় অযোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে লোকসানে পতিত হলে একটি এনজিও ২৫ বছরের জন্য লিজ নেয়। যার ফলে মত্স্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের বদলে তাঁদের পড়তে হয় দৈন্যদশায় । এমন বিপদগ্রস্ততায় মত্স্যজীবীরা সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করলে ইসহাক হোসেন তালুকদার মত্স্যজীবীদের আন্দোলনে সমর্থন দেন। তিনি প্রকৃত অবস্থা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বর্তমানে ইসহাক হোসেন তালুকদারের নেতৃত্বে চলনবিল অঞ্চলের দরিদ্র মত্স্যজীবীদের সানন্দ অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ‘নিমগাছি সমাজ ভিত্তিক মত্স্যচাষ প্রকল্প’ নামে প্রকল্পটি চালু হয়েছে।

১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ দেশে প্রত্যাবর্তন করে শক্ত হাতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হাল ধরেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। সে-সময় সংসদের ভিতর ও বাইরে আওয়ামীলীগের চলমান আন্দোলন নতুন রূপ নেয়। সে আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন কর্মী ও স্থানীয় পর্যায়ে অদ্বিতীয় নেতা হিসেবে গণ্য হন। 

১৯৮৪ সালে বিপুল ভোটে ধামাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ বা রিলিফ-এর পরিমাণ অপ্রতুল হলে নিজ তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ক্রয় করে তা বিতরণ করতেন।

তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ৯ম জাতীয় সংসদের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পাঠাগার বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১০ম জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিরও সদস্য ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমজীবী সংগঠনের উন্নয়নের জন্য তিনি নিরলস কাজ করে গেছেন। তিনি ১৯৮৬ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদ লাভ করেন এবং একই বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মোট পাঁচবার মনোনয়ন লাভ করেন এবং ৩ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি যখন ছাত্র, তখন গ্রামাঞ্চলে অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত। অনেক মানুষ দু’বেলা পেটপুরে খেতে পেত না। এ সময়ে অর্থাভাবে অনেক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের উিশক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। প্রয়োজনীয় অর্থাভাবে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা দ্বারে দ্বারে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াতেন। তিনি তাঁর সমমনা বন্ধুদের নিয়ে অসহায় হতদরিদ্র বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করতেন। সাথীদের নিয়ে খাল-বিল ও বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ শিকার করে তা দিয়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার বাড়িতে বিয়ে অনুষ্ঠানে বরযাত্রীদের খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা করতেন। নিজের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করেও সে অর্থ বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে দান করেছেন। ফলে তাঁর কোনো অর্থ সঞ্চয় ছিল না। অপরদিকে গণমানুষের হূদয়ে তাঁর ভালোবাসার সঞ্চয় বাড়তে থাকে।

নির্বাচনে কর্মীদের অর্থের জোগান দেওয়ার একটা রেওয়াজ আমাদের দেশে চলমান আছে। কিন্তু ইসহাক হোসেন কখনো তা দিতে পারতেন না। তাঁর কর্মীরাও সে আশায় কোনো কাজ করতেন না। তারা নিজ নিজ পকেটের টাকা খরচ করে তাদের প্রিয় নেতার জন্য রাতের পর রাত জেগে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতেন। অসংখ্য দরিদ্র মানুষ নিজেরা চাঁদা তুলে অর্থ সংগ্রহ করে তাঁর নির্বাচনী মাঠে কাজ করতেন। একবার দৈনিক ইত্তেফাকের স্থানীয় এজেন্ট রায়গঞ্জের জয়ানপুর গ্রামের সোনাউল্লাহ তাঁর পত্রিকা বিক্রির একমাত্র বাহন বাইসাইকেল বিক্রি করে সেই অর্থে তার প্রিয় নেতা ইসহাক হোসেন তালুকদারের নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করেছিলেন। এরকম অনেক ভক্ত অনুসারী আছে যাদের নাম উচ্চারণ এই ক্ষুদ্র পরিসরে সম্ভব নয়।

তিনি ছিলেন সংস্কৃতিমনা, ধৈর্যশীল, স্থিরচিত্তের বন্ধুবত্সল মানুষ। এলাকার ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সংস্কৃতিসচেতন করার লক্ষ্যে তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি রবীন্দ্রসংগীতের একজন অসম্ভব রকমের ভক্ত ও ভালো শিল্পী ছিলেন। তাঁর গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ‘আজি বিজন ঘরে..., দূরদেশী সেই রাখাল ছেলে..., জীবন-মরণে সীমানা ছাড়ায়ে বন্ধু হে আমার, রয়েছ দাঁড়ায়ে...’ তুমি রবে নীরবে হূদয়ে মম...। নিপুণভাবে পরিবেশিত এসব গান আজো শ্রোতাদের অন্তরে রেকর্ড হয়ে আছে। বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ইসহাক হোসেন তালুকদার কোনো কাজ করার আগে উত্তমরূপে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং যা করতে চাইতেন তা করেই ক্ষান্ত হতেন। জীবনে কখনো তিনি কোনো অবস্থাতেই সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন এলাকায় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

এই ক্ষণজন্মা মানুষটি সহসাই এত কর্মযোগ, এত তত্পরতা রেখে চিরদিনের মতো বিদায় নিলেন; দিনটি ছিল ৬ অক্টোবর ২০১৪। ১৩ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে ইসহাক হোসেন তালুকদারের মৃত্যুতে আনীত শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন মাটির মানুষ, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। তাঁর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ, নির্লোভ রাজনীতিবিদকে হারিয়ে আওয়ামীলীগের যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনি দেশেরও ক্ষতি হয়েছে।...দেশকে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। আর সোনার বাংলা গড়ার জন্য যে সোনার মানুষ প্রয়োজন ইসহাক হোসেন তালুকদার এধরনের একজন সোনার মানুষই ছিলেন। তিনি এদেশের মাটি ও মানুষকে ভালবেসে তাদের কল্যাণে রাজনীতি করেছেন।’

ইসহাক হোসেন তালুকদার ছিলেন দেশপ্রেম ও জনকল্যাণে একাগ্রচিত্ত এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর অম্লান স্মৃতি তাঁর ভক্ত শুভানুধ্যায়ীরা চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।

গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদার (১৯৫০-২০১৪)