ঢাকার বাহিরেও এডিস মশা উড়িতে পারে!

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৮

করোনা ভাইরাসজনিত উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরেক উদ্বেগ আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে। আর সেই উদ্বেগের নাম ডেঙ্গু রোগ, যাহা এডিস মশার মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হইয়া থাকে। ইহাকে একটি সিজনাল রোগ বলা যায়। বত্সরের এই সময় হইতেই শুরু হয় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। ইত্তেফাকের রিপোর্ট হইতে জানা গিয়াছে, ইতিমধ্যেই  কমপক্ষে ২৭০ জন আক্রান্ত হইয়াছে। প্রতি বত্সর দেশে ডেঙ্গু রোগে হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হইয়া থাকে। সরকারি হিসাবেই গত বত্সর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল দেশব্যাপী ৭৭ হাজারের অধিক। ইহা চাট্টিখানি কথা নহে! এই রোগে মৃত্যুর হারও। সুতরাং ইহা মোটেই উপেক্ষা করিবার মতো বিষয় নহে।

নিঃসন্দেহে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ঢাকায় বেশি হইয়া থাকে। জনসংখ্যা, ঘনবসতি, চারিদিকে অস্বাস্থ্যকর খাল-বিল-ডোবার কারণে এডিস মশা উত্পন্ন হইয়া থাকে বেশি; কিন্তু তাই বলিয়া এমন তো কোনো কথা নাই যে, এই মশা ঢাকার বাহিরে থাকিতে পছন্দ করে না। দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই কমবেশি ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়া থাকে। প্রতি বত্সরই এডিস মশা নিধনে ব্যর্থ হইয়া থাকে সিটি করপোরেশন এবং দোষারোপের অঙ্গুলি উঠে তাহাদের দিকে। উহাই স্বাভাবিক; কিন্তু ঢাকার বাহিরে যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যায় সেই ব্যাপারে জেলা উপজেলাগুলিকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে দেখা যায় না; কিন্তু তাহাদের কোনো দায়িত্ব নাই? একটি উপজেলার প্রশাসনিক কিছু দায়িত্বে নিয়োজিত স্থানীয় জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত পরিষদই উপজেলা পরিষদ হিসাবে পরিচিত। উপজেলা প্রশাসন দুই ভাগে বিভক্ত : সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত। সরকারি প্রশাসন সংরক্ষিত কার্য সম্পাদন করিয়া থাকেন, আর হস্তান্তরিত দায়িত্ব বর্তায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপর। ইহার মধ্যে স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনার সেবাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা প্রণয়নের মতো দায়িত্বগুলি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে। স্বভাবতই ডেঙ্গু মশা নিধনের দায়িত্বে না দেখা যায় সরকারি প্রশাসনকে, আর না দেখা যায় স্থানীয় পরিষদকে। এই সকল প্রতিনিধির অধিকাংশই তাহাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ নহেন বলিয়া প্রতীয়মান হয়। তবে আমরা খোঁজ লইয়া জানিয়াছি, দেশের দুই-চারিটি হাতেগোনা উপজেলায় একটু সচেতনতা পরিলক্ষিত হয় নির্বাচনি এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্যের তাগিদে। দুঃখের বিষয় সরকার উপজেলা প্রশাসনে অবকাঠামো তৈরি করিয়া দিয়াছে, রাজস্ব খাত হইতে এবং রাজস্বের বাহিরে, অর্থাত্ মাস্টার রোলে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী রহিয়াছে; কিন্তু কাজের কাজ দেখিতে পাওয়া যায় না। সুতরাং কেবল ঢাকা নহে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়েও যেন ডেঙ্গু নিধনে সংশ্লিষ্টরা সজাগ থাকেন তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে। এই বিশেষ সংকটকালে প্রয়োজনে প্রতিটি উপজেলার জন্য থোক বরাদ্দের কথা সরকারকে ভাবিতে হইবে।