করোনাকালে নিজেকে জানুন

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৯

যাহাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধের শক্তি কম, করোনা ভাইরাস তাহাদের জন্য সাক্ষাত্ মৃত্যুদূতের মতো। কিন্তু যাহাদের মনের জোর কম, তাহাদের ভয়ও কিন্তু কম কিছু নহে। ভয়টা করোনার দিক হইতে সরাসরি না আসিলেও মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হইতে পারে। তাহা কম ক্ষতির ব্যাপার নহে। এই ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু) উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছে। সময়টাই এমন যে চারিদিকে শুধু করোনা করোনা আর করোনা। টিভির খবরে কিংবা পত্রিকার অনলাইন ভার্শনে কিছুক্ষণ পরপর আপডেট দিতেছে দেশে এবং বিশ্বব্যাপী কতজন আক্রান্ত হইয়াছে, কতজন মারা গিয়াছে; গতকালের তুলনায় আজ কতটা অধিক, আগামী দিনে আরো কত ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হইতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। যাহারা এই খবরগুলি প্রতিনিয়ত দেখিতেছেন, বুঁদ হইয়া রহিয়াছেন করোনাবৃত্তে, তাহাদের মনের স্বাস্থ্য খারাপ হইতে পারে—এই মর্মে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

করোনাকালে লকডাউন, রোজগারহীনতা, বেকারত্ব, চাকুরি হারানোর ভয় এবং সর্বোপরি গৃহবন্দি দশার ভিতর দিয়া এই মুহূর্তে বিশ্বের ৮০ শতাংশ মানুষ দিনাতিপাত করিতেছে। করোনায় বন্দিজীবনের মাত্র এই কয়েক দিনেই বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ অকস্মাত্ জীবনশৈলীর পরিবর্তন মানিয়া লইতে পারিতেছেন না। তবে মনোবিদেরা মনে করিতেছেন, আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির শুরু মাত্র। বিশ্বের অনেক দেশই প্রথম দফায় দুই সপ্তাহ কিংবা তিন সপ্তাহের যেই লকডাউন দিতেছে, পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে তাহা বৃদ্ধি করিতে বাধ্য হইতেছে। চীনের উহান প্রায় দুই মাস পুরাপুরি লকডাউনে ছিল। স্বাভাবিকভাবে, করোনাকে বিদায় করিতে দুই মাস অবধি লকডাউন পরিস্থিতি থাকিতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যেমন পরামর্শ রহিয়াছে ৪৯ দিন অবধি লকডাউন রাখিতে। সুতরাং ইহা ঘটিতেই পারে যে, আমাদের ছুটির মেয়াদ ধাপে ধাপে আরো বৃদ্ধি পাইল। সেই ক্ষেত্রে কোটি কোটি মানুষ যেইভাবে গৃহবন্দি হইয়া রহিয়াছেন, তাহাদের অবস্থা হইবে তপ্ত কড়াই হইতে জ্বলন্ত চুলার ভিতরে গিয়া পড়া। বিশ্বের মনোবিদেরা আশঙ্কা করিতেছেন, করোনার জন্য এই লকডাউন পরিস্থিতি যদি প্রলম্বিত হয়, তাহা হইলে বিশ্বব্যাপী মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের সংখ্যাটাও এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়া যাইবে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়াছে, মাত্র এক সপ্তাহের বন্দিদশায় ১৫ হইতে ২০ শতাংশ মানসিক অস্বাভাবিকতা বৃদ্ধি পাইয়াছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশও ইহার বাহিরে নহে। ইহার কারণ, উদ্বেগ, ভবিষ্যত্ লইয়া অনিশ্চয়তা, সঞ্চিত অর্থে হাত পড়া এবং কর্মজীবনে প্রভাব। ভাইরাসটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ শতাংশ মানুষের আবেগ ও অনুভূতির উপর প্রভাব ফেলিয়াছে। ইহার পাশাপাশি ২২ শতাংশ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। দেশটির জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এই সকল তথ্য উঠিয়া আসিয়াছে।

একটি গবেষণায় দেখা গিয়াছে, মানুষ মানসিক পীড়ন হইতে মুক্তির জন্য সংগীতের সহায়তা লইতে পারে। ইহার সহিত মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, হাস্যরসাত্মক নাটক, চলচ্চিত্র উপভোগ করিবার পাশাপাশি নিজের শোবার ঘর, বাড়িঘর পরিষ্কারের দিকে মনোনিবেশ করা যাইতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলিতেছে, করোনার উদ্বেগ এড়াইতে সারাক্ষণ এই বিষয়ের খবর দেখাও বন্ধ রাখিতে হইবে। এই সময়ে নিজেকে নূতন করিয়া আবিষ্কার করা যাইতে পারে।